
দেশের
শেয়ারবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের দরপতন ও সূচকের
নিম্নমুখী প্রবণতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একদিকে অল্প
কিছু শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে সামান্য স্বস্তি থাকলেও, বাজারজুড়ে বড় পতনের ফলে
কুমিল্লার বিনিয়োগকারীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। মুনাফা সংগ্রহের
প্রবণতা এবং নতুন ক্রেতার অভাবে লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় অনেকটা কমে
গেছে।
রোববার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)
প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (উঝঊঢ) ১৭.৪৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে
দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএস৩০ সূচক ৩৫.০২ পয়েন্ট এবং শরীয়াহ সূচক ১৮.৪৭ পয়েন্ট
হ্রাস পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা গত
কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১১৪ কোটি টাকা কম।
বাজারে তালিকাভুক্ত ৩৯০টি
প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৫টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৪টি প্রতিষ্ঠানের
শেয়ারের দাম কমেছে। এই গণপতনকে 'বড় লাল বাতি' হিসেবে দেখছেন ক্ষুদ্র
বিনিয়োগকারীরা।
কুমিল্লার বিনিয়োগকারী আহসান হাবিব ক্ষোভ প্রকাশ করে
বলেন, "নিউ লাইন ক্লোথিংসের মতো শেয়ার যখন কোনো সংকেত ছাড়াই একদিনে প্রায়
১০ শতাংশ দর হারায়, তখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পুঁজি রক্ষা করা কঠিন
হয়ে পড়ে। বড় বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সংগ্রহের চাপে আমরাই বারবার মূলধন
হারাই।"
তবে এমন মন্দা বাজারের মধ্যেও কিছু শেয়ার নিয়ে আশার আলো দেখছেন
কেউ কেউ। রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড ৭.০৩ শতাংশ দর বেড়ে টপটেন গেইনারের
শীর্ষে থাকায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার বিনিয়োগকারী মো. রফিকুল
ইসলাম। তিনি জানান, এই শেয়ারটিতে অবস্থান নেওয়ায় অনেকেই লোকসানের হাত থেকে
বেঁচেছেন। এছাড়া এশিয়াটিক ল্যাবসের ১৫ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন দেখে
বিনিয়োগকারী নাসরিন সুলতানা মনে করেন, ক্রেতা সংকট থাকলেও কিছু মৌলভিত্তি
সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো অটুট আছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের
মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভালো মুনাফা হওয়া শেয়ারগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা টাকা
তুলে নেওয়ার চেষ্টা করায় এবং বাজারে নতুন তারল্য প্রবাহ না থাকায় এই পতন
ত্বরান্বিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে ক্ষুদ্র
বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
