পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর যে কোনও ‘আগ্রাসী পরিকল্পনা’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সরকারের দাপ্তরিক এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে তিনি একথা বলেন।
এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া আরও পোস্টে শেহবাজ শরিফ বলেন, “প্রিয় মাতৃভূমির রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।”
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন আফগানিস্তানের সীমান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাকিস্তানের বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।
এর আগে একইদিনে আফগান তালেবান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের সামরিক ফাঁড়িগুলোতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ আফগান সীমান্তে শুরু হওয়া সেনা অভিযানকে তালেবানের বিরুদ্ধে পূর্ণ যুদ্ধ আখ্যা দিয়েছেন।
তারপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজও তালেবানকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে তার দেশের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
ওদিকে, আফগান তালেবানের এক মুখপাত্র এক্সে বলেছেন, তারা পাকিস্তানের সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়ে তাদের হামলার জবাব দিয়েছে। তবে পোস্টটি পরে মুছে দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা বিবিসি উর্দু-কে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের প্রথাগত যুদ্ধে লড়ার সম্ভাবনা নেই। সামরিক শক্তির বিচারে দুই পক্ষের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের শক্তিশালী শীর্ষ ১৫টি সামরিক বাহিনীর তালিকায় নিয়মিতভাবে স্থান পায়। অন্যদিকে, তালেবান বাহিনীর কাছে সেই পর্যায়ের সামরিক সরঞ্জাম বা রসদ নেই। তাছাড়া, তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তালেবানের যুদ্ধকৌশল:
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবানের সামরিক সরঞ্জামের মূল উৎস তিনটি: সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র, প্রত্যাহার করা বিদেশি বাহিনীর সরঞ্জাম এবং ব্ল্যাক মার্কেট বা কালোবাজার থেকে সংগৃহীত অস্ত্র।
সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তালেবান বাহিনী মূলত হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রথাগত যুদ্ধে পিছিয়ে থাকলেও তালেবানের দীর্ঘদিনের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
একজন আফগান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিবিসি উর্দু-কে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের বেশিরভাগ লড়াইয়েই অতর্কিত হামলা এবং রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার মতো গেরিলা যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করা হয়।
