আফগানিস্তানের
২২ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং তালেবান কর্মকর্তা ও
যোদ্ধা মিলিয়ে ২৭৪ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের সামরিক
মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরি।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি
হামলা শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এদিন রাতে আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও
পাকতিয়া শহরে হামলা চালানোর খবর জানায় পাকিস্তান। তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে
‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এর আগে
ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী লক্ষ্য করে বড় পরিসরে আক্রমণ
চালানোর কথা বলেছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
এ
সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে
ওই আক্রমণের কথা বলছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের এই হামলার পর
পাকিস্তানও পাল্টা হামলা শুরু করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ
শরিফ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর যে কোনও
‘আগ্রাসী পরিকল্পনা’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আছে। তালেবানকে
সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দিতে তার দেশের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
এই
পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরি
আফগানিস্তানে হামলা ও হতাহতের খতিয়ান জানালেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি
বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ২২ টি স্থানে হামলায় তালেবান পক্ষে ২৭৪ জন নিহত
হয়েছে।
এছাড়া, ৪০০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছে এবং ৮৩ টি
তালেবান ফাঁড়ি ধ্বংস হওয়া ছাড়াও আরও ১৭ টি ফাঁড়ি দখল হয়েছে বলে পাকিস্তানের
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান পক্ষে নিহত হয়েছে অন্তত
১২ জন সেনা, আহত হয়েছে ২৭ জন এবং একজন সেনা নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
তবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়
পাকিস্তানি সেনা নিহতের সংখ্যা আরও বেশি ৫৫ জন এবং কয়েকজন জীবিত ধরা পড়েছে
বলে দাবি করেছে। আর আফগান সেনা নিহতের সংখ্যা ৮ এবং আহত ১১ বলে উল্লেখ
করেছে তারা।
দুইপক্ষের এই হতাহতের সংখ্যার হিসাব নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
