আমরা
মহান আল্লাহর বান্দা বা দাস। দাসত্বের পূর্ণতা পায় প্রধান তিনটি জিনিসের
সমন্বয়ে। এর একটির শুন্যতা পরিপূর্ণ দাসত্বের দাবীর বিপরীত। এগুলোকে আপনি
আমি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসাবেও দেখতে পাই। আর এই তিনটি জিনিস হলো-
০১. সন্মান। ০২. অনুসরণ। ০৩. ভয়। অতি সংক্ষেপে এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা
করব ইনশাআল্লাহ।
০১. সন্মান- পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবেনা যিনি
সন্মান চাননা। সন্মান পাওয়া প্রত্যেক মানুষের সৃষ্টিগত অধিকার। মহান আল্লাহ
ঘোষনা করেন "অবশ্যই আমি সন্মানীত করেছি বনী আদম অর্থাৎ মানব জাতীকে...."
সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত-৭০, পারা-১৫। এই সম্মানের সম্পর্ক যখন প্রভুর
ব্যাপারে হয় তখনতো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও
সর্বশ্রেষ্ঠ সন্মান পাওয়ার অধিকার একমাত্র মহান আল্লাহরই। এর ব্যাত্যয় করা
যাবেনা কোনক্রমেই।
০২. অনুসরণ- আমার মালিক আমাকে যখন যা আদেশ ও নিষেধ করবেন তা বিনাবাক্যে যুক্তিতর্কহীন
ভাবে
তা মেনে নিয়ে অনুসরণ করা। এই জায়গাটিতে আমরা ব্যাতিক্রম করে ফেলি। আমরা
আদেশতো অনেকাংশে মেনে চলি কিন্তু নিষেধটার ব্যাপারেই রয়ে যাই পরিপূর্ণ
উদাসীন কোন কোন ক্ষেত্রে বেপরোয়া। যেমন- আমাদেরকে বলা হলো নামাজ আদায় করতে
আমরা নামাজ আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। আবার যখন বলা হলো যে, তোমরা সুদ, ঘুষ,
মানুষের হক খেয়োনা সেটা কিন্তু পালন করিনা। যাকাত, রোজা ও হজ্জ তো পালন
করি কিন্তু যখন বলা হলো তুমি হারাম উপার্জন করিওনা, সে ব্যাপারে
বিন্দুমাত্র পরওয়াও
করিনা। প্রকৃত অনুসরনতো তাকেই বলে যা "হ্যাঁ" পালিত হবে ১০০% আবার "না" টাও পালিত হবে
১০০%।
এ জন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনুল কারিমে ঘোষনা করেন " ওহে ঈমানদারগণ
তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর। পরিপূণ দাসত্ব।" সুরা-বাকারাহ,
আয়াত-২০৮, পারা-২।
০৩. ভয়- ভয় এমন একটি জিনিস। যা মানুষসহ অন্যান্য সকল
প্রাণির মাঝে বিরাজমান। পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে বা হবে তার পিছনে কোন না
কোন ভয় কাজ করছেই। তবে প্রভুর প্রতি দাসের যে ভয় কাজ করে সেটা একটু
ব্যাতিক্রম। এই ভয়ের মাঝে আছে এক ঐশ্বরিক শান্তি ও শক্তি। যা অনুভব করা যায়
বুঝানো যায়না। বান্দাহ বা দাস তার প্রভুর প্রেমে বিভোর থাকবে সাথে সাথে ভয়
থাকবে এই প্রেমের সম্পর্ক কোন ভাবেই যেন নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কোন
বান্দাহ যদি এই ভয় অর্জন করতে পারে তাহলে সে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে
যাচ্ছে।
আমাদের ঈমানের পরিপূর্ণতা, আমলের পরিপূর্ণতা এই তিনের মধ্যেই
রয়েছে। যে যতবেশি এর চর্চা করবে সে ততবেশি দাসত্বের স্বাধ ও মর্ম বুঝতে
সক্ষম হবে। বান্দার চিন্তা চেতনা, কর্মযজ্ঞ, অস্তিত্বজুড়ে থাকবে শুধু
দাসত্ব মহান প্রভুর প্রতি। যেখানে থাকবেনা কোন চাওয়া পাওয়ার হিসাব। কারণ
আমি যার দাসত্ব মেনে নিয়েছি এবং কবুল করেছি আমার চাওয়া পাওয়ার হিসাবও করবেন
তিনিই, আমি না।
