তিতাস প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার
মেঘনা উপজেলার আলোচিত ব্যক্তি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে সম্রাট
জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে মেঘনা থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি বড়কান্দা
ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের হাজী আব্দুস ছামাদের ছেলে।
রবিবার (২২
ফেব্রুয়ারী) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে মেঘনা থানার এসআই মো. সুদীপ্ত শাহীন
বলেন, গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর অর্থ আত্মসাৎ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি,
আদালতের রায়ের পর থেকে তিনি দেশের বাহিরে পলাতক ছিলেন। পরে দেশে এসেও প্রায়
তিনমাস আত্মগোপনে থাকেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার
দিকে ওসি শহীদুল ইসলাম স্যারের নির্দেশে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে
৭টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার কর করা হয় এবং পরবর্তী
আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ,
দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ
খোলার সাহস পাননি। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে
বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও ভুক্তভোগীরা এতদিন নীরব ছিলেন।
এদের মধ্যে কেউ টাকা ফেরত চাইলে তাকে মামলা–হামলার ভয়ভীতি দেখানো হতো। ফলে
অনেকেই অর্থ ফেরত না পাওয়ার শঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ভয়ে প্রকাশ্যে
অভিযোগ করতে রাজি হননি। তবে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের পর ধীরে ধীরে সামনে
আসছে নানা তথ্য।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিক ব্যক্তি আর্থিকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের পর তারা ধীরে ধীরে বিষয়টি জানাতে শুরু
করেছেন। তবে অভিযুক্তের ভয়ে এখনো কেউ প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি নন; তারা
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলছেন। এছাড়াও অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে
বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও এলাকায়
প্রচলিত ছিল। দীর্ঘদিনের প্রভাব ও দাপটের কারণে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর
পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে এমন মন্তব্যও করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মেঘনা থানা
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “৪৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে
দণ্ডিত ও এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির
মামলায় পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার
দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগেরদিন শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়
আমাদের টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছিল।”
