কুমিল্লার
চান্দিনা উপজেলার পানিপড়া গ্রামে টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক
শহিদুল ইসলামসহ এলাকার একাধিক কৃষক। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে
শীতকালীন টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও জমিতে পাইকারি
বিক্রিমূল্য তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকদের আনন্দ কিছুটা ম্লান।
১৮
ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে পানিপড়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ
জমিজুড়ে টমেটোর ক্ষেত। ক্ষেত থেকে নারীরা ব্যস্তভাবে টমেটো সংগ্রহ করছেন।
স্বল্প মজুরিতে তারা টমেটো পেড়ে বস্তাবন্দি করে পাইকারদের কাছে সরবরাহ
করছেন।
জমির মালিক প্রবীণ কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর তিনি চার
একর জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে
প্রায় সমপরিমাণ টমেটো বিক্রি হয়েছে, ফলে মূলধন প্রায় উঠে এসেছে। তিনি
জানান, একই জমির একটি অংশে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ করেছেন, যেখানে এখন ফুল
আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রমজানের পর বাজারজাত করা সম্ভব
হবে।
তিনি আরও বলেন, পানিপড়া এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমিতে টমেটো চাষ
হয়েছে। ক্ষেতজুড়ে কাঁচা-পাকা টমেটোর সমারোহ চোখে পড়ার মতো। তবে কৃষকদের
অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।
স্থানীয়
কৃষিবিদ মো. হোসেন জানান, এ এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে তরমুজ, শসা ও টমেটোর
চাষ হয়ে আসছে। তিনিও পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন। টমেটো চাষের
মাধ্যমে অনেক কৃষকের জীবনমান উন্নত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে
ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকে টমেটো সংগ্রহ করে নিয়ে
যান।
টমেটো চাষি রাকিব মিয়া জানান, এ বছর চার কিয়ার জমিতে টমেটো চাষে
তার প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন লাখ টাকার
টমেটো বিক্রি করেছেন এবং আরও চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন।
তার মতে, পুরো এলাকা মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার টমেটো বিক্রি হবে।
ক্ষেতগুলোতে
বহু মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন নারী
শ্রমিক কাজ করেন। তারা দৈনিক ২০০ টাকা করে মজুরি পান, যা তাদের পরিবারের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।
কৃষক শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, মাঠে
পাইকারি বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩–১৪ টাকায়, অথচ শহরের
বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উৎপাদনকারী কৃষক
ন্যায্য দাম না পেয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছে—এটা কতটা ন্যায্য?
কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায়
প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। দাউদকান্দি, চান্দিনা, মুরাদনগর,
বরুড়া ও সদর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। কৃষকদের
উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, ন্যায্য মূল্য ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পানিপড়ার টমেটো দেশজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।
