কুমিল্লার
দেবিদ্বারে গত ২৪ ঘন্টায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ ১৫
জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৬জনকে ঢাকার মহাখালী
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও বাকিদের দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু ইবনে
সিনা ইকরাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে কুমিল্লায় প্রায় দেড় বছর
ধরে কুকুরে কামড়ে আহতদের রেবিক্স ডিসি ইনজেকশনের সরবরাহ নেই। ফলে
কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে
হচ্ছে।
আহতরা হলো, দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের
পদ্মকোট গ্রামের রহিমা বেগম (৫৫), দেবিদ্বার পৌর এলাকার রাবিয়া আক্তার
শিবনগর গ্রামের মানহা আক্তার, ছোট আলমপুরের মো.আনাছ, নামির হাসান, মো.
জাভেদ, মো. ইয়াছিন, ছায়া রানী, ইমন হাছান, মোসা. শারমিন আক্তার, ধামতী
গ্রামের কারিমা আক্তার, বারেরা এলাকার তানভীর, হাদিপুর গ্রামের মোসা. মাইশা
আক্তার, মুরাদনগর উপজেলার বাইরা গ্রামের মো. ইশান মিয়া, ও মো. আবির
হোসেন।
হাসপাতালে
চিকিৎসারত আহতদের একাধিক স্বজন জানায়, একটি লালচে-হালকা ডোরাকাটা রঙের
পাগলা কুকুর গত দুদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করছে। এটি রাস্তায় দৌড়াচ্ছে আর
সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। কুকুরটির হামলায় সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে
শিশুরা। তাদের অনেকের গলা, পিঠ ও পায়ের মাংস আলাদা করে ফেলেছে। এ ঘটনায়
মুহুর্তে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক
চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে ভ্যাকসিন টিকা না থাকায় কেউ
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আবার কেউ মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি
হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
কুকুরের কামড়ে আহত নামির হাসানের বাবা নাজমুল
হাসান নাহিদ মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে জানান, আমার
চোখের সামনে আমার ছেলেসহ ৬জনকে কুকুর কামড়িয়েছে। কামড়ে কারও গলায় কারও হাতে
কারও পায়ের মাংস আলাদা হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে কানের নিচে গলায় কামড়িয়ে
মাংস আলাদা করে ফেলেছে। ছেলেকে নিয়ে এখন মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে
আছি, তাকে কিছুক্ষণ আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “পাগলা কুকুরের বিষয়টি
নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে
আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই কুকুরটি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ
ছাড়া হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত
সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা.আবু ইবনে সিনা ইকরাম বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় কুকুরের
কামড়ে আহত প্রায় ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে
কয়েকজনশিশুর হাত, পা-পিঠে ও গলায় কামড়িয়ে মাংস আলাদা করে ফেলেছে তাদের
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল
সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, কুকুরে কামড়ানোর জরুরি ভিত্তিতে
ভ্যাকসিন দিতে হয় কিন্তু এটা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, জেলাতেও ভ্যাকসিনের
সংকট রয়েছে। আমরা এটি ক্রয় করার জন্য চেষ্টা করছি।