রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬
১ চৈত্র ১৪৩২
গণতন্ত্রের স্বার্থে আচরণবিধি মেনে চলুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম |

গণতন্ত্রের স্বার্থে আচরণবিধি মেনে চলুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, আপিল শুনানি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে গত পরশু। বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী শুরু হচ্ছে নির্বাচনি প্রচার।
পাবনার দুটি আসন বাদে ২৯৮টি আসনে এবার মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৭ জন। তফসিল অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত এই প্রচারণা চালানো যাবে। সেই হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচনি প্রচার যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যে আরপিওতে (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) নির্বাচনি প্রচার ও আচরণবিধি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে প্রত্যেক প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের জন্য এই আচরণবিধি অবশ্য পালনীয় বলে উল্লেখ করা আছে। বিধি ভঙ্গ করলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রচার শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই গত কয়েক দিন ধরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলেছে দেশজুড়ে। আইনি সীমারেখা মানেননি অনেক প্রার্থী। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তারা সারা দেশে নানা কৌশলে আগাম প্রচার, শোডাউন, বিলবোর্ড, সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পূর্ব পর্যন্ত এ রকম অর্ধশতাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক প্রার্থীকে শোকজ, তলব এবং কোথাও কোথাও তাদের জরিমানা ও মুচলেকার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবু থামেনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব। জামায়াত, এনসিপিসহ বেশ কিছু দলের প্রার্থীকে সতর্ক করেছে ইসি। এমনকি কয়েকটি দলের প্রধান-যেমন জামায়াতে ইসলামীর আমির, খেলাফত মজলিসের আমির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ককে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের কেউ কেউ এর জবাবও দিয়েছেন। কিন্তু ওই জবাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা স্বীকার না করে অনেকেই এমনভাবে জবাব দিয়েছেন যেন কোনো লঙ্ঘনই হয়নি। তাদের কাছ থেকে এ রকম প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য দেখা গেছে, অনেক প্রার্থীই কৌশলে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। মিলাদ, দোয়া মাহফিল, শোকসভা, স্মরণসভাসহ নানা উপায়ে তারা প্রচার চালিয়েছেন। কোথাও বিশাল বিলবোর্ডে প্রার্থীর ছবি ও স্লোগান, কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ বা পোস্টার, আবার কোথাও ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের আড়ালে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এবার এই প্রচারের আরেকটা অভিনব দিক ছিল গণভোটের নামে অনেক প্রার্থী নিজের প্রার্থিতার পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
এসব লঙ্ঘনের ঘটনায় বিধি অনুসারে নির্বাচন কমিশন যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া, দু-একটি ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জরিমানা করা ছাড়া শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি নির্বাচন কমিশনকে। প্রভাবশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি তারা। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করে অব্যাহতি পেয়ে গেছেন।
পরিস্থিতি এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তফসিল অনুযায়ী শুরু হয়েছে বৈধ নির্বাচনি প্রচার। এখন থেকে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সব প্রার্থী আচরণবিধি পুরোপুরি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। আরপিওতে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলে সতর্ক করা, জরিমানা, কারণ দর্শানোর নোটিশ, মুচলেকা, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল বা নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে। প্রার্থীরা তাই এখন থেকে আরপিও মেনে প্রচার চালাবেন, সেটাই প্রত্যাশা করছি। আরপিওতেই নির্দিষ্ট করে বলা আছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার শাস্তি কী হতে পারে। নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করা এবং সুষ্ঠু ভোটের জন্য যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। দলীয় প্রভাবশালী প্রার্থী অথবা দুর্বল স্বতন্ত্র প্রার্থী–কারও প্রতি কোনো ধরনের পক্ষপাত নয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সবার বিরুদ্ধেই সমান আচরণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আইন ভাঙার প্রবণতা যেহেতু আমাদের প্রায় মজ্জাগত, বিশেষ করে অতীতের নির্বাচনগুলোতে এটা দেখা গেছে, সেই প্রবণতা রোধ করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আমরা ঠিক সেটাই দেখতে চাই।
বিশাল এই নির্বাচনিযজ্ঞে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের স্বল্প লোকবল কিংবা নজরদারির জন্য গঠিত ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষে সামাল দেওয়া সহজ হবে না। প্রার্থীদেরই প্রকৃতপক্ষে আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। প্রার্থীরা সেদিকটির প্রতি লক্ষ রাখবেন বলে আমরা আশা করি।
শুধু আচরণগত কারণে নয়, গণতন্ত্রের জন্যই নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা প্রয়োজন। সুষ্ঠু, বিতর্কহীন, সংঘাতমুক্ত নির্বাচনই পারে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা সমুন্নত রাখতে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু
মানবিকতা ও দেশপ্রেমে অনুপ্রেরণা ইউসুফ মোল্লা টিপু : মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন
অহংকার
প্রতিদিন মিলবে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
ব্রাহ্মণপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এমপি জসিম উদ্দিনের পরিচ্ছন্নতার অভিযান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় চুলা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন
কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু
মানবিকতা ও দেশপ্রেমে অনুপ্রেরণা ইউসুফ মোল্লা টিপু : মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন
ব্রাহ্মণপাড়া এক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেল বোরো আবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ৫ সিটির প্রশাসকদের
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২