
কুমিল্লার
লাকসামে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে পৌরশহরের পশ্চিমগাঁও এলাকা থেকে পুলিশ
শরিফুল ইসলাম (৩০) নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
ওইদিন রাত
অনুমান সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর মো. শাহ
আলমের বাড়ির দক্ষিণ পাশের অপর একটি বাড়ির নীচতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি
উদ্ধার করা হয়।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ
ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই শিক্ষকের বাড়ি কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পোটকরা গ্রামে। তিনি পশ্চিমগাঁও আল
আমিন ইন্সটিটিউট'র খন্ডকালীন গণিতের শিক্ষক। গত চার মাস ধরে তিনি ওই
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষকতার সুবাদে
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি প্রয়াত শাহ আলম কাউন্সিলরের বাড়ি
সংলগ্ন অপর একটি বাড়ির নীচতলাযর একটি কক্ষে একাই থাকতেন।
একটি সূত্রে
জানান, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত অনুমান সাড়ে ১০ দিকে নাঈম (১৫) নামে ওই
শিক্ষকের এক ভাতিজা সেখানে গিয়ে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। এ সময় অনেক
ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন যে,
কক্ষের ভিতরে খাটের ওপর তাঁর নিথরদেহ পড়ে রয়েছেন। এমতবস্থায় সে চিৎকার দিলে
আশপাশের লোকজন এসে ঘটনা দেখে লাকসাম থানা পুলিশকে সংবাদ দেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল তৈরি করে থানায় নিয়ে আসেন।
আল
আমিন ইন্সটিটিউট'র শিক্ষক মো. আসলাম মিয়া জানান, শরিফুল ইসলাম তিন-চার মাস
আগে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণিত বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান
করেন।
তিনি জানান, রবিবার শ্রেণিকক্ষে না যাওয়ায় তাঁকে একাধিকবার
মুঠোফোনে কল দেন। কিন্তু রিসিভ না করায় ভাবলাম, হয়তো কোনো সমস্যার কারণে
ফোন ধরেননি।
একটি সূত্রে জানায়, ওই শিক্ষক শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতের
খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিমে পড়েন। পরদিন রবিবার বিকেলে তাঁর ভাতিজা নাঈম
এসে কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে চলে যায়। ভাবছে তিনি হয়তো
বেশি ক্লান্ত, ঘুমিয়ে আছেন। তাই আর বিরক্ত করেনি। কিন্তু রাত সাড়ে ১০টার
দিকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবং অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া শব্দ না
পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশকে সংবাদ দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ
করে দেখেন ওই শিক্ষক মারা গেছেন। খাটের ওপর তাঁর নিথরদেহ পড়ে রয়েছে।
শিক্ষক
শরিফুল ইসলাম কখন মারা গেছেন, এটি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, যেহেতু তিনি ওই কক্ষে একাই থাকতেন। সেহেতু যে
কোনো এক সময় ঘুমের মধ্যে হয়তো হার্ট এ্যাটাকে তিনি মারা গেছেন।
লাকসাম
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
রাত ১১টার দিকে সংবাদ পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ
মরদেহ উদ্ধার এবং সুরতহাল করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি জানান,
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে আইনী
প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক)
হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষ
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত
রয়েছে।
