ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম
উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে অবৈধ
ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি উত্তোলন করছে একাধিক অসাধু ব্যবসায়ী। এতে
একদিকে যেমন কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও
জনস্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা
গেছে, দুলালপুর, চান্দলা, মাধবপুর, সাহেবাবাদ, সিদলাই,শশীদলসহ উপজেলার
প্রায় সব ইউনিয়নেই একাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিন-রাত নির্বিঘ্নে বালু ও
মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব মেশিন দিয়ে ফসলি জমি থেকে গভীরভাবে মাটি কেটে
বিভিন্ন স্থানে জমি ভরাট করে বাড়ি ও মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে উর্বর
কৃষিজমি নষ্ট হয়ে পড়ছে, জমির পরিমান কমে যাচ্ছে।
মাঝে মাঝে উপজেলা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে কিছু ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস
করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ,
প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই আবার নতুন করে শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব।
এলাকাবাসীর
অভিযোগ, এসব অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির
ছত্রছায়ায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় তহশিল অফিসের
সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে এসব অবৈধ ড্রেজার
নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে
চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অবৈধভাবে মাটি
কাটার কারণে তাদের জমিতে ফসল ফলানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জমি চাষের
অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আশপাশের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটও পাশাপাশি অন্যান্য
ফসলি জমি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এমতাবস্থায় কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশ
সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত অভিযান
এবং অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ ও ধ্বংসের পাশাপাশি এসব ড্রেজার মালিকদের
আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের
প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ এসব ড্রেজার
মেশিনের মালিক ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তবেই এই
অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ হবে। এবং ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষিজমি ও পরিবেশ
রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)
মাহমুদ জাহান বলেন, আমি নিজেই অবৈধ মাটিকাটা ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান
পরিচালনা করছি। পাশাপাশি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে নির্দেশ দিয়েছি
ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে, ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলো ড্রেজার
ধ্বংস করেছি এবং ভ্রামম্যান আদালতে জরিমানা করেছি। আমাদের এই অভিযান অব্যহত
থাকবে।
