শুক্রবার ● ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩
পরিকল্পিতভাবে বাড়তি সময়কে কাজে লাগান
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

পরিকল্পিতভাবে বাড়তি সময়কে কাজে লাগানজাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পেল। এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এর ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সুযোগ পেল। দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, জ্বালানিসংকট, বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে এই তিন বছর সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বেসরকারি খাত মনে করে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিন পরই এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়াতে জাতিসংঘে আবেদন করে। প্রস্তাবে বলা হয়, করোনা মহামারি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সংঘাত, বৈশ্বিক অভিঘাত- এসব কারণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে ঘাটতি আছে। এমন প্রেক্ষাপটে আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন বলা যায়।
সার্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এলডিসি উত্তরণ তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়ে নানামুখী পরামর্শও দিয়েছিলেন। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের শঙ্কা ছিল, এলডিসি সুবিধা হারালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে দেশের রপ্তানি খাত। তারা আশঙ্কা করেছিল, উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। উৎপাদিত পণ্য ও সেবায় নগদ সহায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগও সীমিত হবে।
তিন বছর সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশে পণ্যের রপ্তানিতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা থেকে আপাতত স্বস্তি মিলবে। উত্তরণের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা যাবে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্য প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মোট রপ্তানির ৭৩ শতাংশ এলডিসিভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় রয়েছে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এলডিসির তালিকাভুক্ত হয়। তখন থেকেই বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বিশেষ সুবিধা ভোগ করে আসছে। বাড়তি সময় পাওয়ায় দেশের রপ্তানিকারকরা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তাই সময় ধরে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য শুরুর খরচ কমাতে হবে। বিনিয়োগ-বাণিজ্য পরিবেশের উন্নতি করতে হবে। তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি খাতের পরিবর্তে বৈচিত্র্যময় রপ্তানি খাত তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ভূমিকাও লাগবে। এখন পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্য পণ্য রপ্তানিও কীভাবে বাড়ানো যায় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। রপ্তানি পণ্যের তালিকা বড় করার পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় করতে হবে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতি জোরদার করতে বাংলাদেশ তিন বছর সময় পাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এলডিসি উত্তরণসংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, বৈচিত্র্যময় রপ্তানি খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশল কাঠামোর মধ্যে প্রথম তিন বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টাকে সংস্কারকাজের মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ হওয়া জরুরি।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২