মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজতে হবে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজতে হবেএইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল শনিবার। বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। শেষ হয় ৮ আগস্ট। এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, তবে প্রায় ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এ বছর ৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। বিগত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে। ২০২৫ সালে গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন। এ ছাড়া একজনও পাস করেনি ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে। প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৫২ দশমিক শূন্য ৭, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড ৫১ দশমিক ৪৪, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৪৫ দশমিক শূন্য ৬, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮, বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪, যশোর শিক্ষা বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৪৮ দশমিক শূন্য ৪, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ও কারিগরি বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এবারের হতাশাজনক ফলাফলের পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার বড় ধরনের সংকট সামনে এসেছে। একজন শিক্ষার্থীর পরিবারের অনেক স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তানকে ঘিরে। সন্তানরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে কষ্টের শেষ থাকে না। বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবার রয়েছে, যারা নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে গিয়ে আর্থিকভাবে হিমশিম খেতে হয়। এবার পাসের হার কম হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হবে। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হবে। এ অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়তে পারে। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারে না। এ ক্ষেত্রে তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
অবশ্য ইতোমধ্যে সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবং সব শিক্ষার্থীর যোগ্যতা একই মানদণ্ডে মূল্যায়নের লক্ষ্যেই সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একই বিষয়ের পরীক্ষা হবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, শুধু প্রশ্নপত্র অভিন্ন করলেই শিক্ষার সব বৈষম্য দূর হবে না। পাঠদানের মান, শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি, উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে এসব বিষয় ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই অভিন্ন প্রশ্নপত্রের পাশাপাশি এ বিষয়গুলোর সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। শহরকেন্দ্রিক কলেজের তুলনায় মফস্বলে যোগ্য শিক্ষকের তীব্র সংকট লক্ষ করা যায়। গ্রামের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা-উপকরণসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক গ্রাম পর্যায়ের কলেজগুলোয় থাকতে চান না। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত ও বৈষম্য দূরীকরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২২ বছরের মধ্যে যে ফলাফল এল, তার সঠিক কারণ বিচার-বিশ্লেষণ করে এখন থেকেই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২