প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। চার দিনের জাপান সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের ফলে ২ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
দুই দেশের সরকারপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আরও বলা হয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগকে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। বিশেষ এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বেসরকারি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের। এ কারণে বাংলাদেশ সরকারকে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া জরুরি। এ জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশকে সহজ করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জাপান যেহেতু বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, এ ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা যাতে দেশের উৎপাদন বাড়ানো, দক্ষ কর্মী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টি প্রাধান্য দিতে হবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগেও জাপান সব সময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন কাজ হবে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি উভয় পক্ষ যত দ্রুত বাস্তবায়ন করবে ততই মঙ্গল। দুই দেশের সরকারপ্রধান টেকসই সরবরাহব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছেন। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে উদীয়মান অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
