সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবেময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনের মতো চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে নগরের শম্ভুগঞ্জের একটি বর্জ্য সংরক্ষণাগারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব সামগ্রীর মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি; বরং এসবের মেয়াদ ২০২৮ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত রয়েছে। সরকারি অর্থে কেনা এসব চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে হাসপাতালের ভান্ডার থেকে বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে চলে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি। এটি নিছক অব্যবস্থাপনা, নাকি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ দুরভিসন্ধি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি বর্জ্য সরানো হয়। এসব বর্জ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এত বিপুল পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে অথচ তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ছে না, ব্যাপারটি বেশ রহস্যজনক। হাসপাতালের প্রতিটি চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়, মজুত, বিতরণ ও ব্যবহারের হিসাব থাকার কথা। সেই হিসাব যাচাই করলে হয়তো বোঝা যাবে, এটা কীভাবে ঘটছে!
পরিহাসের বিষয়, একদিকে হাসপাতালের রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাচ্ছেন না; অন্যদিকে ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। এমনকি অস্ত্রোপচারের আগেও তাদের বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করতে বলা হয়। দরিদ্র রোগীদের জন্য এ বাড়তি ব্যয় অনেক সময় চিকিৎসা গ্রহণকেই কঠিন করে তোলে। অথচ সরকারি অর্থে কেনা সামগ্রী অব্যবহৃত অবস্থায় বর্জ্যে চলে গেলে তার চেয়ে বড় অপচয় আর কী হতে পারে? রোগীদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য কেনা সামগ্রী যদি তাদের কাজেই না লাগল, তবে তা কেনার দরকারইবা কী?
মমেক হাসপাতাল বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোগীদের চিকিৎসার অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। বিশেষ করে সিরিঞ্জ ও ক্যানুলার মতো সামগ্রী বর্জ্যে ফেলার পর সেগুলো অনিরাপদভাবে পুনর্ব্যবহার বা বাজারজাত করা হলে সংক্রমণসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়; জনস্বাস্থ্যের জন্যও তা গভীর উদ্বেগের।
এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রথমেই বর্জ্য সংরক্ষণাগারে পাওয়া প্রতিটি সামগ্রীর ধরন, পরিমাণ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মেয়াদ ও ব্যাচ নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর হাসপাতালের ক্রয় ও মজুত রেজিস্টার, ওয়ার্ডভিত্তিক সরবরাহের হিসাব এবং বিতরণসংক্রান্ত নথির সঙ্গে সেগুলোর মিল পরীক্ষা করা জরুরি। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের চুক্তি, বর্জ্য সংগ্রহ ও হস্তান্তর-প্রক্রিয়ার বৈধতাও যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের ফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
একই সঙ্গে এই অপচয় দ্রুত বন্ধ করা জরুরি। প্রতিটি সামগ্রী সরবরাহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়মিত মজুত যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাজ তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তদন্তে কারও অবহেলা, দায়িত্বহীনতা কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এমন ঘটনা অন্য সব হাসপাতালেও ঘটছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এগুলো জনগণের অর্থে কেনা সম্পদ। যে সামগ্রী রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহারের কথা, তা বর্জ্যে পরিণত হওয়ার ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে। দরিদ্র রোগীকে বাইরে থেকে সিরিঞ্জ, ক্যানুলা কিংবা স্যালাইন কিনতে হবে, অথচ একই সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে বর্জ্যের স্তূপে পড়ে থাকবে-এ অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি সম্পদের অপচয় বন্ধ এবং রোগীর চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে মমেক হাসপাতালের এ ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২