মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সংঘাত এড়াতে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

সংঘাত এড়াতে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে হবেরাজনৈতিক কারণে বা দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বিরোধ কিংবা বিরোধী পক্ষকে দমন করতে খুন-জখমের ঘটনাগুলো ঘটছে। দিনে-দুপুরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছে। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। আসন্ন স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন ও মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ বিরাজ করছে। বিরোধ থেকেই খুন-জখমের মতো অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়ও এসবের পেছনে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার, সাংগঠনিক পদ-পদবি ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ-অসন্তোষ থেকে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেশ কিছু দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী কারাগার থেকে জামিনে বা বিদেশ থেকে দেশে এসে সহিংসতায় যুক্ত হয়েছেন। গোয়েন্দারা মনে করছেন, অপরাধীরা তাদের হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার ও পুরোনো শত্রুতার জেরে নতুন করে অপরাধে মেতে উঠেছে। আবার দেখা যাচ্ছে, একই দল এবং একই নেতৃত্বের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও সংঘাতের পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এসব প্রতিযোগিতায় খুন-সহিংসতা বাড়ছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানেই এ ধরনের অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতসহ বিভিন্ন কারণে ৯৪ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে ৬, আগস্ট, জুলাই ও জুনে ১১ জন করে তিন মাসে ৩৩ জন, মে মাসে ৫, এপ্রিলে ৭, মার্চে ১৯, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ এবং জানুয়ারিতে ১১ জন খুন হন। এই ৯ মাসের রাজনৈতিক সংঘাত বা হামলা-পাল্টাহামলায় আহত হন ৩ হাজার ৫৮৭ জন। এর আগের এক বছরে তথা ২০২৫ সালে রাজনৈতিক কারণে নিহত হন ১০২ জন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, রাজনৈতিক খুনোখুনি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। যেকোনো দ্বন্দ্ব-বিরোধ বা রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাজ করা পুলিশ বাহিনীসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিবেশ বা আশঙ্কার বিষয়গুলো সম্পর্কে আগাম তথ্য ঊর্ধ্বতনদের জানাতে হবে, যাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
রাজনৈতিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে আড়াল হলেও সংঘাতের মূলে দেখা যায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব। অপরাধী যেই দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্প্রতি যে সহিংসতা ও খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পদে যারা রয়েছেন, তাদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কেন্দ্রথেকে স্থানীয় সকল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও সহাবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা থাকা জরুরি। আশা করছি, সরকার একটা সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২