নিজস্ব প্রতিবেদক, সদর দক্ষিণ ।।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নুরুল্লাহ মাহি নামের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তুলাতুলী গ্রামের জাকির হোসেন ওরফে ‘ইঞ্জিল জাকিরের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আহত শিক্ষার্থীর পরিবার। বর্তমানে মাহি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আহত মাহির পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তার মা ফাতেমা আক্তার।
সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের তুলাতুলী মাজারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে জাকির হোসেন ওরফে ইঞ্জিল জাকিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তার দোকানে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এরপর থেকে একই গ্রামের প্রবাসী আখতারুজ্জামান বাবুর ছেলে মাহিকে সন্দেহ করে জাকির হোসেন বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে মাহিকে সামনে পেয়ে ধাওয়া করেন জাকির হোসেন। পরে পার্শ্ববর্তী মনিপুর গ্রামে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে মাহির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় মাদক কারবার ও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মহানগর তাঁতীদলের আহ্বায়ক মো. রেজাউল করিম বলেন, ইঞ্জিল জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। এর ফলে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে এবং যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কলেজশিক্ষার্থী মাহিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অসত্য।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
