ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পুকুরপাড়ের লাকড়ির স্তূপ থেকে মা সাপসহ মোট ২২টি বিষধর সাপ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামে সামসু মাস্টারের বাড়ির পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ধান্যদৌল গ্রামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সাপের কামড়ে মারা যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
গতকাল সকালে সামসু মাস্টারের বাড়ির পুকুরপাড়ে লাকড়ির স্তূপের নিচে একটি বড় বিষধর সাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান। পরে সবাই মিলে একত্রিত হয়ে লাকড়ির স্তূপ সরিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একের পর এক সাপের বাচ্চা। সেখান থেকে একটি বড় মা সাপ ও ১৬টি বাচ্চা পিটিয়ে মারা হয়। এ সময় আরেকটি বড় সাপ গর্তে ঢুকে পালিয়ে যায়। এর আগে গত বুধবার রাতে একই স্থান থেকে আরও ৪টি সাপের বাচ্চা মারা হয়েছিল। গত দুই দিনে ওই স্থান থেকে মোট ২১টি বাচ্চা ও ১টি বড় বিষধর সাপ মারা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধান্যদৌল গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, "গত সপ্তাহে সাপের কামড়ে আমাদের এলাকার এক শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর থেকে সবাই খুব আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে লাকড়ির স্তূপের নিচে সাপ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে গর্ত খুড়ে ১৬টি বাচ্চা ও ১টি বড় সাপ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারে। এর আগের রাতেও ৪টি বাচ্চা মারা হয়েছিল। তবে একটি বড় সাপ গর্ত দিয়ে পালিয়ে গেছে।"
পুকুরপাড় থেকে একসাথে এতো বিষধর সাপ ও সাপের বাচ্চা পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া বড় সাপটির সন্ধানে এখনো সতর্ক রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক বলেন, "আমি বিষয়টি শুনেছি। এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে বিষধর সাপগুলোকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। তবে শীত ও গরমের মাঝামাঝি সময়ে (সংক্রমণ ও প্রজনন ঋতুতে) সাধারণত সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ সময় সকলকে আরও বেশি সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এর আগে গত কিছুদিন আগে ধান্যদৌল গ্রামে সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই মূলত এলাকায় বাড়তি আতঙ্ক বিরাজ করছে।"
