বুধবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রাহ্মণপাড়া নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সার, বিপাকে কৃষক
ইসমাইল নয়ন।।
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ এএম |



চলতি আমন মৌসুমের ভরসময়ে ব্রাহ্মণপাড়া বিসিআইসির ডিলার ও সাব-ডিলারদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সারের দাম কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ডিলারদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁরা বাড়তি দামে সার বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ১০ জন বিসিআইসি নিবন্ধিত ডিলার এবং তাঁদের অধীনে ৭২ জন নিবন্ধিত সাব-ডিলার রয়েছেন। এসব ডিলারদের মাধ্যমেই স্থানীয় কৃষকেরা সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করে থাকেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, আমন চাষের এই ভরা মৌসুমে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দামে সার বিক্রি করছেন।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের 'হাসান এন্টারপ্রাইজ'-এর স্বত্বাধিকারী হাসান মিয়া বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গাড়িভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ঘাটতি পুষিয়ে নিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
একই এলাকার 'বিসমিল্লাহ স্টোর'-এর ডিলার দেলোয়ার হোসেন ও 'হাজী এন্টারপ্রাইজ'-এর মালিক হাজী আবুল কালামও একই অজুহাত দেন। তাঁদের দাবি, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি মূল্যে সার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ডিলারদের এই বাড়তি দামের খড়্গ পড়েছে সরাসরি কৃষকদের ওপর। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন তাঁরা। উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার কৃষক ইউনুস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চলতি মৌসুমে ৭২ শতাংশ জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছি। কিন্তু দোকানে গেলে কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেশি চাওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ডিলাররা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এ দামে না হলে সার নেওয়া যাবে না।”
চান্দলার আরেক কৃষক আব্দুল হাই বলেন, “কীটনাশক ও সারের উচ্চমূল্যে এমনিতেই আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে। এর ওপর ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সারের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। এতে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমষিবিদ আবদুল মতিন বলেন, “কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার সারে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই ডিলাররা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করতে পারবেন না। আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করছি। যে বা যাঁরা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম  জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমরা মাধবপুর ও চান্দলা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে এই তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২