মো. হাবিবুর রহমান ।।
কুমিল্লার বাঙ্গরায় লক্ষ্মী রানী সরকার (৩২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে স্বামী ও তার পরিবার। ঘটনার পর নিহত গৃহবধূর লাশ মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার।
রবিবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লক্ষ্মী রানী মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নেরউত্তর ত্রিশ (মালিশাইর) গ্রামের ননী চন্দ্র দাসের মেয়ে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে বাঙ্গরা উপজেলার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের অবনি মোহন সরকারের ছেলে বিশ্বজিৎ সরকারের সাথে লক্ষ্মী রানীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য লক্ষ্মী রানীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল বিশ্বজিৎ।
নিহতের বড় ভাই লক্ষণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, "বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার বোনের ওপর নির্মম নির্যাতন চলত। বোনকে বাঁচাতে মা আমাদের অজান্তেই বিভিন্ন সময় বিশ্বজিৎকে টাকা দিতেন। কিন্তু তাতেও তার ওপর নির্যাতন থামেনি। রবিবার দুপুরে তারা আমার বোনকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধুনোর তীরের সাথে কাপড় পেঁচিয়ে ফাঁসি দেওয়ার নাটক সাজায়।"
তিনি আরও জানান, বিকেল ৫টার দিকে বিশ্বজিৎ নিজেই লাশ হাসপাতালে নিয়ে এসে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এমনকি স্ত্রীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও সে উপস্থিত হয়নি। লক্ষণ চন্দ্র দাস তার বোনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
বাঙ্গরা বাজার থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, "লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
