
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দেড় ও পাঁচ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশুকে চিপস কিনে দিয়ে সড়কের পাশে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের মায়ের বিরুদ্ধে। পরে শিশু দুটির কান্না শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের এক চাচি এসে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে শিশু দুটির মা তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানান। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজারে রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশু দুটি হলো রোজা (দেড় বছর) ও তার বড় বোন ইসরাত (৫)। তারা উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের নাছির ও জেসমিন দম্পতির মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বাজার এলাকায় শিশু দুটিকে একা কান্নাকাটি করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে যান। পাঁচ বছর বয়সী ইসরাতের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, তাদের মা চিপস কিনে দিয়ে কোথাও চলে গেছেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে শিশু দুটির পরিচয় ও স্বজনদের খুঁজে পেতে স্থানীয় কয়েকজন ফেসবুকে তাদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও দেখে শিশু দুটির এক চাচি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজন তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশু দুটিকে তাঁর কাছে তুলে দেন। শিশু দুটির চাচি স্থানীয়দের জানান, তাদের বাবা নাছির কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। পরিবারটি আগে নগরীতেই বসবাস করত। প্রায় চার মাস আগে নাছির ও জেসমিনের বিচ্ছেদ হয়। পরে জেসমিন অন্যত্র বিয়ে করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনেই মুঠোফোনে শিশু দুটির মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তাদের চাচি। এ সময় জেসমিন জানান, তিনি ইচ্ছা করেই শিশু দুটিকে রেখে গেছেন। তিনি নগরীর শাসনগাছায় পৌঁছে গেছেন এবং শিশুদের ফিরিয়ে নেবেন না। পরে শিশু দুটির চাচি তাদের বাবা নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তখন তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কী কারণে শিশু দুটিকে এভাবে রেখে যাওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে শিশু দুটির মা-বাবা কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় একজন চিকিৎসক ফোন করেছিলেন। পরে পরিবারের লোকজন ওই চিকিৎসকের দোকানে চলে আসায় তাঁদের কাছে দুই শিশুকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
