
কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাশিদা বেগম নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রহিম সরকারকে (৬০) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান।
গ্রেফতার রহিম সরকার মুরাদনগর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেন সরকারের ছেলে।
এসআরবি সূত্র জানায়, গত ২৫ জুন সকালে মহেশপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাশিদা বেগমকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মহেশপুর গ্রামের খোরশেদ আলম ও রহিম সরকারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগে রহিম সরকার পক্ষের সদস্য মাওলা সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার আসামি দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। এরই জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা এসআরবির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান বলেন, পলাতক থাকার একপর্যায়ে গত ২৫ জুন সকালে রাশিদা বেগম নিজ বাড়িতে আসেন। পরে গৃহপালিত পশু নিয়ে পিকআপভ্যানে করে বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় পথে তার গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এরপর রহিম সরকারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন তাকে পিকআপভ্যান থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার দুই মেয়েকেও মারধর করে আহত করা হয়।
পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশিদা বেগমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রহিম সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার দুপুরে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
