কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় চালিভাংগা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
আহতরা হলেন,ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. শহিদুল্লাহ (২০), যুবদল নেতা মো.ওয়াসিম প্রধান (৪০), ছালমা আক্তার (২৫), জয়মালা আক্তার (৫০), শরুফা আক্তার (৪৫) ও চালিভাংগা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.জামাল সরকার(৪৫)।
আলী হোসেন প্রধান (৪৮),আরিফ প্রধান (২৫),আনোয়ার প্রধান (৫২) ও মুক্তার হোসেন (৪৮)। এদের মধ্যে ছালমা আক্তার ও জামাল সরকারকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীরা সবাই নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকী অন্যান্য আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো গ্রাম জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারও যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গ্রামের নিরীহ মানুষ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নলচর গ্রামবাসী বৈঠক করে যুবদল নেতা রবিউল্লাহ রবিকে গ্রাম থেকে একক প্রার্থী চুড়ান্ত করেছেন।এসময় একই গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি মো.আব্দুল বারেক প্রধানও বৈঠকে রবিউল্লাহ রবিকে সমর্থন করেন।
পরবর্তীতে বারেক প্রধান নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এনিয়ে রবি গ্রুপ ও বারেক গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং বারেক প্রধানের ছেলে মহসিন সোমবার রাতে পুলিশ নিয়ে রবিউল্লাহ রবির সমর্থকদের ধাওয়া করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জরিয়ে পড়ে। এসময় উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুর্নবাসন করছেন যুবদল নেতা রবিউল্লাহ রবি।
চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.হুমায়ুন কবির বলেন,আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নলচর গ্রাম থেকে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রবিউল্লাহ রবিকে পুরো গ্রামবাসী চুড়ান্ত করেছে এবং বারেক প্রধানও রবিউল্লাহ রবিকে সমর্থন করেছেন। পরবর্তীতে বারেক প্রধান নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এনিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে সোমবার রাতে বারেক প্রধানের ছেলে মহসিন পুলিশ এনে রবিউল্লাহ রবির লোকজনকে ধাওয়া করেন। তারই জেরে আজ মঙ্গলবার সকালে দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জরিয়ে পড়ে। এছাড়াও উভয় গ্রুপের একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সোমবার রাতে বারেক প্রধানের পক্ষে পুলিশ গিয়ে রবিউল্লাহ রবির লোকজনদের ধাওয়া করেছে জানতে চাইলে, ওসি শহিদুল ইসলাম ধাওয়া করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ একটি মামলা বিষয় তদন্ত করতে গিয়ে ছিল। তদন্ত শেষ করতে হয়তো রাত হয়েছে। পুলিশ কারো পক্ষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বারেক প্রধান ও রবিউল্লাহ রবির সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
