বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে জয় কীর্ত্তনীয়া (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। লাকসাম পৌরশহরের বাইপাস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০-এর ৯ (খ) ধারায় লাকসাম থানায় একটি মামলা রুজু এবং কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবক চাঁদপুরের মতলব (দক্ষিণ) উপজেলার উপাদী গ্রামের বোয়ালিয়া বাড়ির গৌরাঙ্গ কীর্ত্তনীয়ার ছেলে। তিনি লাকসাম পৌরশহরের দৌলতগঞ্জ বাজারে একটি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন।
লাকসাম থানা পুলিশ, মামলার নথি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আগেরদিন সোমবার জয় কীর্ত্তনীয়া নামে ওই
যুবক এক তরুণীকে নিয়ে লাকসাম পৌরশহরের বাইপাস এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এক ফাঁকে দু'জন হোটেল থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা দু'জনকেই আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে আটককৃত যুবকের অসংলগ্ন কথাবার্তায় লোকজন তাঁকে উত্তম-মধ্যম দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাজারগাঁও ইউনিয়নের মালাপাড়া বেপারী বাড়ির বাসিন্দা জসিমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২২) নামে ওই তরুণী একজন মুসলিম। তিনি ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রায় দুই বছর ধরে জয় কীর্ত্তনীয়া নামে এই হিন্দু যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সে সুবাদে তিনি প্রেমিক জয়ের সঙ্গে দেখা করতে প্রায়ই লাকসাম আসতেন। ঘটনারদিন আবাসিক হোটেল থেকে দু'জন বের হওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে ওই যুবককে উত্তমমধ্যম দেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পরে ওই তরুণী থানায় একটি মামলা রুজু করেন। পুলিশ ওই মামলায় জয় কীর্ত্তনীয়া নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করেন।
ওই তরুণীর দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে জয় তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। আজও এর ব্যতিক্রম ঘটনি।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় লাকসাম থানায় একটি মামলা (নং-১৭/১১৮ তাং-২৯/৯/২০২৬ খ্রীঃ) রুজু করা হয়েছে।
ওসি জানান, মামলার আসামী জয় কীর্ত্তনীয়াকে এবং ভিকটিমকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
