কুমিল্লার লাকসামে ঘরে ঢুকে নাজমা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী দিদার হোসেনকে (৩০) লাকসাম থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মো. দিদার হোসেন একই গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল মিয়ার ছেলে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী ওই আসামীকে গ্রেপ্তার এবং আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগেরদিন রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত অনুমান ১১টার দিকে গোপন সংবাদেরভিত্তিতে লাকসাম পৌরশহরের বাইপাস এলাকা থেকে আসামী মো. দিদার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।
লাকসাম থানা পুলিশ ও বাদীর দায়েরকৃত মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগষ্ট উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাপুরা সাতঘর গ্রামের মজুমদার বাড়ির দুবাই প্রবাসী মো. জামাল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম ভোর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে ওঠেন। এ সময় এক দূর্বৃত্ত বাসার ছাদ থেকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে ঘরের একটি কক্ষে প্রবেশ করে। ওই নারী কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দুর্বৃত্ত তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যৢপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে ঘরে থাকা সন্তানেরা এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুর্বৃত্ত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে প্রথমিক চিকিৎসা দেন। পরে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করেন।
আহত ওই নারীর পরিবারের দাবি, ওই দুর্বৃত্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই নারীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে। ওই ঘটনায় পরদিন ৩০ আগস্ট লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী বলেন, আসামী মো. দিদার হোসেন দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। রবিবার রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরশহরের বাইপাস এলাকা হতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থানার আইনী প্রক্রিয়া শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামী মো. দিদার হোসেনকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
