সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
কুমিল্লা-মিরপুর সড়কে অবাধে চলছে অতিরিক্ত মালবোঝাই অবৈধ ট্রাক্টর
ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ এএম আপডেট: ২১.০৯.২০২৬ ১:৪৪ এএম |


 কুমিল্লা-মিরপুর সড়কে অবাধে চলছে  অতিরিক্ত মালবোঝাই অবৈধ ট্রাক্টর
কুমিল্লা-মিরপুর সড়কে অবাধে চলাচল করছে হালচাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টর। কৃষিকাজের জন্য ব্যবহারের কথা থাকলেও এসব ট্রাক্টর দিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও নির্মাণসামগ্রী অতিরিক্ত মালবোঝাই করে ব্যস্ত সড়কে চলাচল করছে। এতে একদিকে যেমন সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সড়ক গুলোতে দেদারছে চলছে হাল চাষের ট্রাক্টার। ভোর রাত থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত ছোট বড় সকল সড়কে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করছে ট্রাক্টরগুলো। ড্রাইভিং লাইসেন্স, সিগনাল লাইট ও হর্ণ ছাড়াই এগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন না হওয়ায় অনেক অদক্ষ ও কিশোর বয়সের ছেলেরা এসব গাড়ি চালাচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাসহ রাস্তায় যানজট, কালো ধোঁয়া ও শব্দ দূষণ হচ্ছে এবং রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। বৃষ্টি আসলে বিভিন্ন পাকা সড়কে ট্রাক্টরের মাটি পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ফলে মটর সাইকেল, অটোরিক্সা, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা উল্টে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাক্টরের বড় বড় বিট ওয়ালা চাকার কারনে কাচা ও পাকা রাস্তার অনেক ক্ষতি হয়। কাচা রাস্তার মাটি উঠে খানা খন্দকে পরিনত হয় এবং পাকা রাস্তার পিচগুলো উঠে যায়। তাই সড়কগুলো অল্প দিনেই চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যায়। এই ট্রাক্টর গুলো প্রকৃতপক্ষে হাল চাষ করার জন্য তৈরী করা হয় এবং আমদানী করা হয়। কিন্তু কিছু অসাধূ ব্যাবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় হাল চাষ না করে কোন ওয়ার্কসপ থেকে একটি বডি কিংবা ট্রলি তৈরী করে ইঞ্জিনের পেছনে লাগিয়ে দিয়ে বিভিন্ন পরিবহন নামে সড়কে ছেড়ে দেয়। বৈধ কাগজপত্র বলতে কিছুই নেই। তবু রাস্তার রাজা হয়ে দিন রাত চলছে তো চলছেই। স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে যানজটের পাশাপাশি প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রাক্টর শুধুমাত্র জমিতে চাষাবাদের জন্য বৈধ থাকলেও এখন অবৈধভাবে ব্যস্থতম সড়ক পথে পণ্য পরিবহন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বল্প খরচে ভারী কাজ করানোর জন্য লোকজন এসব যানবাহন ব্যবহার করে। সরেজমিনে দু’উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন অনেক বালু, ইট ও সুরকী বিক্রির মহল তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ ট্রলি ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইট, বালু, রড, সিমেন্ট, মাটি ও গাছসহ বিভিন্ন পণ্য অতিরিক্ত বোঝাই করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কখনো কৃষি জমির মাটি ও বালি মহল থেকে পলি বালু নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। যদিও এসব যানবাহন রাস্তায় চলাচলের কোন সুযোগ নেই। অনেক ট্রাক্টারের মালিক চাষাবাদের পর ট্রাক্টারে অতিরিক্ত বডি লাগিয়ে অবৈধ ভাবে রাস্তায় নেমে আসে। ইট, সিমেন্ট, বালু, মাটি ও কংক্রিট পরিবহন করে। আর লোকজন টাকা বাঁচানোর জন্য ট্রলি ও ট্রাক্টর ভাড়া করে। এতে পরিবহনে অনুমদিত গাড়িগুলো লোকেসানে পরছে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না করার কারণে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উজ্জল চন্দ্র রায় বলেন, ট্রলি ও ট্রাক্টর যখন ব্রাহ্মণপাড়া বাজার অতিক্রম করে, তখন প্রায়ই বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় যখন এসব গাড়ি রাস্তায় চলে তখন স্কুলের বাচ্চারা রাস্তা পারাপারের সময় অনেক ভয় পায়। ট্রাক্টার চালক মাইনুদ্দিন ও গোপাল নগর গ্রামের ট্রলি চালক মোঃ ফারুক বলেন, ‘আমরা বেকার ও গরিব মানুষ, গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ নেই, শিখে নিয়েছি। গাড়ি বৈধ-অবৈধ বুঝি না। আমরা রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালাই। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে মটরসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্রের জন্য অভিযান পরিচালনা করলেও রহস্যজনক কারনে সড়কে দাপিয়ে বেড়ানো অবৈধ ট্রাক্টরগুলোর উপর কোন ধরনের অভিযান সেভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এই সুযোগে দিন দিন কুমিল্লা - মিরপুর সড়কের বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কাচা পাকা সড়কে হাল চাষের ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ইট ভাটার মালিক ও মাটি এবং বালু বিক্রয়ের সিন্ডিকেটরা হাল চাষের ট্রাক্টরগুলোতে অবৈধ ট্রলি লাগিয়ে সড়কের উপর ছেড়ে দেয় তাদের ইট, বালু ও মাটি পরিবহন করার জন্য। সচেতন মহল মনে করেন এসব নিষিদ্ধ গাড়ি বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। না হলে দিনদিন এসব যানবাহনের প্রভাবে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং গ্রামীণ জনপদ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে মাটি, বালু, ইট, ধান, খড়সহ বিভিন্ন মালামাল বহন করতে দেখা যায় এসব ট্রাক্টরকে। অনেক সময় ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করে দ্রুতগতিতে চলাচল করায় পথচারী, অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে জনবহুল বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন এলাকায় এসব ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অতিরিক্ত মালামাল বহনের কারণে সড়কে মালামাল পড়ে গিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি এসব ট্রাক্টর পণ্য পরিবহনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ট্রাক্টরের পেছনে অতিরিক্ত উচ্চতার মালামাল বহন করা হয়। ফলে চালকের পেছনের দিকের দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, এসব ট্রাক্টরের অনেকগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় রাতে চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পর্যাপ্ত আলো বা দৃশ্যমান সংকেত ছাড়াই মালবোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন ও পথচারীদের জন্য পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর কৃষকের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা দিয়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহলের দাবি, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার ব্যস্ত সড়কগুলোতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক্টরের চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২