সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা
প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার-
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ এএম আপডেট: ২১.০৯.২০২৬ ১:৪৪ এএম |

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আইফোন ছিনিয়ে নিতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান। 
তিনি জানান, অপ্রতিমকে হত্যা করতে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল মিলেই তাকে আঘাত করেছে। মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে আঘাত করে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখায় অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সিয়াম নামে আরো একজনকে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। 
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান প্রেস ব্রিফিংয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল। অপ্রতিমের হাত থেকে আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে তুহিনের পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় জঙ্গলে নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডে প্রথমে তুহিন, এরপর ফাহাদ পর্যাক্রমে কামরুল অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। 
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ অপ্রতিমের বাবা এম ফিরোজ শাহরিয়ারের জিডি ধরে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেনের ফাহাদ (১৫) ও মোঃ কামরুল হাসান (১৫) এর সঙ্গে অপ্রতিমের যোগাযোগ ও চলাফেরা ছিল। অপ্রতিম শুধু শুক্রবারই নয়, প্রায়ই মায়ের আইফোন নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে ঘুরতে, ছবি তুলতে এবং আড্ডা দিতে বের হতো। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রুপে অপ্রতিমের সক্রিয় ভূমিকা থাকার বেশ কিছু আলামত রয়েছে, যেগুলো ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি।
পুলিশ জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর দায়ের করা জিডির সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। সে কুমিল্লা সিটি কলেজ একাদশ শ্রেণিতে পড়তো। ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি ড্রপআউট হয়ে যান।
তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুল হাসান এবং ফাহাদকে আটক করা হয়। তারা ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া আফজল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সিয়ামকে (১৮) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে পুলিশ ।
গত শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় তুহিন কামরুল এবং ফাহাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার পেশায় ব্যবসায়ী।
অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।
এদিকে, রবিবার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীসহ মানুষের ঢল নামে। পরে সেখান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
অপরদিকে, অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। দীর্ঘ দেড় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে অপ্রতিমের প্রকৃত আসামিদের গ্ৰেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে দেড় ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া শিক্ষার্থীরা। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২