
কুমিল্লার কাগজ রিপোর্ট ।।
কুমিল্লার আলোচিত অপ্রতিম হত্যায় ঘটনায় আনাস নয়, তুহিন ও ফাহাদের সাথে তিজনের গ্রুপে ছিলো কামরুল। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এসআরবি (বিলুপ্ত র্যাব) অভিযান চালিয়ে আনাসকে আটক করলেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলায় পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে কাছাকাছি সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তুহিন ও ফাহাদের গ্রুপের অপর সদস্য কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে।
রবিবার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়েও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। জবাবে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান- পুলিশ আনাস নামে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এই মামলায় তুহিন, ফাহাদ এবং কামরুলকে গ্রেপ্তার এবং সিয়াম নামে একজনকে আটক করার তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
কুমিল্লার সালমানপুরের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা তুহিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে নিহত অপ্রতিমকে ডেকে নেয় সানন্দা এলাকায় এরপর সেখানে আসা আনাস, ফাহিমসহ আরো ২/৩ জন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটা। এর আগে জুমার নামাজের পর নিহত অপ্রতিমকে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মূল ফটকের সামনে। সম্ভবত এরপরই সে তুহিনের অনুরোধে সাড়া দেয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। সূত্র জানায়, তুহিনের ম্যাসেঞ্জারে নিহত অপ্রতিমের সাথে শেষ মুহূর্তের কথপোকথনের তথ্য পাওয়া যায়। তুহিনের অনুরোধে অপ্রতিম এক ঘন্টার জন্য সানন্দায় যেতে সম্মত হয়।
সিসি ফুটেজে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসির বাসার সামনে দিয়ে হেঁটে সানন্দা এলাকার দিকে যাচ্ছে। এলাকার এক সিসি ফুটেজে তুহিন ও অপ্রতিমকে ঘটনাস্থলের দিকে নির্বিঘ্নে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এরপরই আরেক পথে আনাস ও ফাহিমকে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। সেটিও ধরা পড়ে সিসি ফুটেজে। তারপরই ঘটে হত্যার ঘটনা।
সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নির্ভার থাকে। সকাল ৮টার দিকে তারা তিনজনই নিহত অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে ক্রন্দনরত তার মা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা নাহিদকে সান্ত্বনা দেয়। সেখান থেকে ফিরে তারা যে যার মতো চলে যায়। তুহিন সানন্দায় নিজের বাসায় গিয়ে স্বাভাবিক সময় কাটায়। আর আনাস চলে যায় ঢাকার গাবতলীতে।
দুপুরের দিকে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা তুহিনকে সানন্দায় নিজ বাসা থেকে আটক করে। পরে তার মোবাইলে অপ্রতিমের সাথে চ্যাটিং এবং তাকে ডেকে আনার প্রমাণ পায়। শিক্ষার্থীরা তুহিনের কাছে আনাসের কথা জানতে চাইলে সে মহিপাল নিজের বাড়িতে আছে বলে জানায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে মোবাইল ট্র্যাকিং করে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ছাড়া ফাহিমকেও গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, তুহিনকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে নিয়ে ডিবি পুলিশ আবার সানন্দায় তার বাসায় যায়। সেখানে তুহিনের দেখানো স্থান থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়।
এ দিকে কি কারণে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি নির্ভরযোগ্য সূত্রটি। তবে ধারণা করা হচ্ছে- একটি মোটরসাইকেল কেনা এবং টাকা সংগ্রহ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
সূত্র জানায়, তুহিন ও ফাহিম উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিন্তু অপ্রতিম ছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো কারণে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।
