
কুমিল্লা
নগরীর পুরাতন বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে আয়োজিত বাণিজ্য মেলা
শুরু হচ্ছে জুয়া-লটারী বন্ধসহ৫ শর্ত মেনে। শর্তগুলো হচ্ছে-মেলায় হাউজি,
সার্কাস, জুয়া কিংবা কোনো ধরনের অশালীন কার্যক্রম রাখা যাবে না। একই সঙ্গে
প্রবেশ টিকিট বা কুপনের নামে প্রতিদিন র্যাফেল ড্রও করা যাবে না। এছাড়া
শহর বা শহরের বাহিরে ভাসমান কোন টিকিট বিক্রি করা যাবে না। হেফাজতে ইসলাম
বাংলাদেশসহ ৭টি ইসলামী দলের ওই ৫ শর্ত মেনে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করবে মেলা
কর্তৃপক্ষ।
রোববার সকালে কুমিল্লা নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক
বৈঠকে কুমিল্লা বাণিজ্য মেলা নিয়ে বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ সাতটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর
স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বৈঠকে মেলা কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন তারেক আহমেদ। সাতটি সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সামছুল আলম জিলানী।
মেলা
কমিটির পক্ষে তারেক আহমেদ বলেন, এই মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী,
কর্মচারীসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি
হয়েছে। পাশাপাশি মেলাটি তরুণদের মাদক ও নেশা থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পণ্য
প্রদর্শন, বেচাকেনার সুযোগ তৈরি এবং মানুষের জন্য নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা
করা। মেলায় কোনো ধরনের জুয়া, অশালীন কর্মকাণ্ড কিংবা অনৈতিক বিনোদনের
সুযোগ দেওয়া হবে না।
মাওলানা সামছুল আলম জিলানী বলেন, মেলা যেন
বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনোভাবেই
জুয়া বা অশালীনতার মাধ্যমে পরিচালিত না হয় এ বিষয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে
সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন হলে আপত্তির বিষয়গুলো আর
থাকবে না।
মেলার আয়োজকরা জানান, পুরাতন বিমানবন্দর এলাকার রাজাপাড়ায়
অনুষ্ঠিত এ মেলায় স্থানীয় ও বাইরের বিভিন্ন উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা অংশ
নিচ্ছেন। মেলার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয়
পর্যায়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরো বলা
হয়েছে, নির্ধারিত শর্ত মেনেই মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং মেলার
পরিবেশ সুন্দর, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
