প্লাবণ
ভূমিতে মৎস্য চাষের দাউদকান্দি মডেল পদ্ধতি পুনরায় চালু করলে জাতীয়
অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা
আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম
কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। বলেছেন, এই পদ্ধতি অত্যন্ত
কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিবান্ধব এই মৎস্য চাষ কর্মসূচি বিগত বিএনপি
সরকারের সময়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে ছিল। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কর্মসূচি
বন্ধ করে দেয়। যা খুবই দূর্ভাগ্যজনক।
রবিবার (১৬আগস্ট) ‘মৎস্য
পক্ষ-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে দাউদকান্দি উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ
বলেন, এই মৎস্য চাষ কর্মসূচি নতুন করে চালু করা হলে মৎস্য ঘাটতি পূরণ হবে
এবং জাতি উপকৃত হবে। এটি সমাজভিত্তিক মৎস্য চাষ পদ্ধতি। বর্ষাকালে প্লাবিত
কৃষি জমিতে ৬ মাসের জন্য এই পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করা হয়। বর্ষা শেষে কৃষকরা
সমুদয় মাছ ধরে বিক্রি করে দেন। এই একই জমিতে নতুনভাবে ইরি বোর ধান চাষ করা
হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপনের প্রতিপাদ্য ‘রূপালি মৎস্যে
স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে
নেতৃত্বদেন প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। আলোচনায় ড. খন্দকার মারুফ
বলেন, প্লাবণ ভূমিতে মৎস্য চাষ পদ্ধতি ‘দাউদকান্দি মডেল’ হিসেবে ২০০৪ সালে
সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর এটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে
প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। এই মৎস্য চাষ পদ্ধতির ওপর গবেষণা চালিয়ে ইতোমধ্যে
বহু শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ
বলেন, মৎস্য চাষের এই নয়া পদ্ধতির উদ্ভাবক বর্ষীয়ান রাজনীতিক ড. খন্দকার
মোশাররফ হোসেন। তার রচিত ‘প্লাবণ ভূমিতে মৎস্য চাষ, দাউদকান্দি মডেল’ নামের
গ্রন্থ মৎস্য অধিদপ্তরে ‘গাইড বই’ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন,
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষক
কার্ড প্রদান করছেন। মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও কৃষি কাজে সহায়তা দিতে
অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
‘প্লাবণ ভূমিতে মৎস্য চাষ’ পদ্ধতি আবারও চালু করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে
অসামান্য অবদান রাখবে, কৃষক পরিবারে আনন্দ বার্তা যাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থান
সৃষ্টি হবে। মৎস্য চাষ পদ্ধতিটি আবারও পুরোদমে চালু করতে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দাবি করছি।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, আমাদের
প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন
করতে কাজ করছেন। স্বাবলম্বী করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে
কর্মীর হাতে রূপান্তর করার পরামর্শ দেন।
ড.খন্দকার মারুফ মৎস্য চাষে
উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং মৎস্য চাষীদের মধ্যে
মেলবন্ধন সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যারা কারেন্ট ও চায়না জাল দিয়ে
অবৈধভাবে মাছ ধরছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্যও তিনি স্থানীয়
প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। পরে উপজেলা কমপ্লেক্স পুকুরে ড.খন্দকার মারুফ
হোসেন মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। তিনি সফল মৎস্য উদ্যোক্তা ও চাষীদের মধ্যে
পুরস্কার বিতরণ করেন।
দাউদকান্দির ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) নাহিদ আহমেদের
সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন
চৌধুরী, দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, দাউদকান্দি পৌর
বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের
সাবেক সভাপতি ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, পৌর যুবদলের আহবায়ক শরীফ চৌধুরী ও
দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার প্রমুখ।
