রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র ১৪৩৩
সংকট উত্তরণে দ্রুতকার্যকর ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম |

সংকট উত্তরণে দ্রুতকার্যকর ব্যবস্থা নিন
 রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বত্রই বাড়ছে লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলছে সারা দেশে। কোথাও দিনে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বিপরীতে চাহিদা উঠেছে সাড়ে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত।
তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। কর্মকর্তাদের স্থানীয় জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কায় গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যালয় ও উপকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একইভাবে নীলফামারীতে বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নেত্রকোনায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এদিকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানিসংকট, কেন্দ্রের মেরামত ও অন্যান্য কারিগরি সমস্যার কারণে এ সক্ষমতার বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ওঠানামা করছে। ফলে প্রতিদিনই কয়েক হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। যার বড় অংশ পূরণ করতে হচ্ছে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি ও বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৩ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৪৬৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে গ্যাসসংকটের কারণ রয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কেন্দ্রকে কম উৎপাদনে চালাতে হচ্ছে, আবার কোথাও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ এই খাতেও পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চলমান বিদ্যুৎসংকট মোকাবিলা ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮ টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অপচয় কমাতে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এখন জনদুর্ভোগ যাতে দ্রুত কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও কাজে লাগানো যেতে পারে। সংকট উত্তরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সরকার একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান সংকট উত্তরণে দক্ষতার পরিচয় দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২