
স্বামীর
মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে যেন না-ফেরার দেশে চলে গেলেন স্ত্রীও। স্বামীর
জানাজার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে পরিবারের সদস্যদের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে
পড়েন স্ত্রী। মুহূর্তেই শোকের মাতম নেমে আসে পুরো বাড়িতে। যে উঠানে স্বামীর
জানাজার প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই যোগ হয় স্ত্রীর মরদেহ। পরে একই সঙ্গে
জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয় এই দম্পতিকে।
মর্মস্পর্শী এ ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, রাণীচড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৬১) সোমবার (১০ আগস্ট)
বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানী ঢাকার একটি
হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার
(১১ আগস্ট) বাদ জোহর আব্দুস সাত্তারের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ
জন্য বাড়িতে মরদেহ আনা, কফিনবন্দি করা, কবর খোঁড়াসহ দাফনের সব প্রস্তুতি
সম্পন্ন করা হয়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষায় ছিলেন জানাজার জন্য। দুপুরে
মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। সবাই যখন নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি
নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্বামীর জানাজায় অংশ নেওয়ার মাত্র
পাঁচ মিনিট আগে স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৬) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরিবারের সদস্যদের
সামনেই মৃত্যুবরণ করেন।
এক মুহূর্তে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। স্বামীর
জানাজার প্রস্তুতির পাশাপাশি শুরু হয় স্ত্রীর মরদেহের প্রস্তুতি। স্বজনদের
আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে রাণীচড়া গ্রামের পরিবেশ। যে মানুষটি স্বামীকে শেষ
বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তাকেই শেষ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে একই
যাত্রায় যেতে হলো।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মোশারফ হোসেন জানান, আব্দুস
সাত্তার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করতেন। প্রায় দেড়
বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। তার স্ত্রী সালেহা বেগম প্রায় এক বছর
আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন।
তিনি বলেন,
স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই সালেহা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে
পড়েছিলেন। স্বামীর জানাজার কয়েক মিনিট আগে পরিবারের সবার সামনে তার মৃত্যু
হয়। ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর মৃত্যুর শোকেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে
মৃত্যুবরণ করেছেন।
মৃত্যুকালে আব্দুস সাত্তার ও সালেহা বেগম দম্পতি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।
পরে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের।
দীর্ঘ
দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী দুজনের শেষ বিদায়ও হলো একই দিনে, একই
সময়ে-চিরনিদ্রায় পাশাপাশি। রাণীচড়ার মানুষের কাছে ঘটনাটি যেন এক হৃদয়বিদারক
ভালোবাসার গল্প হয়ে রইল-যার শুরু হয়েছিল একসঙ্গে পথচলায়, আর শেষ হলো
একসঙ্গে না-ফেরার দেশে পাড়ি দিয়ে।
