বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
কুমিল্লার সড়ক-ফুটপাত দখল হয়ে আছে নির্মাণ সামগ্রীতে
জহির শান্ত:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৭ এএম আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ১:৫৯ এএম |

 কুমিল্লার সড়ক-ফুটপাত দখল  হয়ে আছে নির্মাণ সামগ্রীতে
কুমিল্লার অধিকাংশ সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে আছে নির্মাণাধীন স্থাপনার জন্য আনা বালু, ইট, পাথর, সিমেন্ট। পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ফুটপাতে স্তুপ আকারে জমিয়ে রাখা হয়েছে এসব সামগ্রী। বৃষ্টি নামলেই বালু, পাথর কনা, সিমেন্ট পানিতে ধুয়ে পার্শ্ববর্তী নালা- ড্রেনে গিয়ে জমছে; যা জলাবদ্ধতা তৈরীর অন্যতম কারণও বলছে সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশনের নিষেধাজ্ঞা কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলের ভোগান্তি- কোন কিছুই যেন চোঁখে পড়ে না নির্মান কর্তৃপক্ষের। আইন ও সামাজিকতা উপেক্ষা করেই দিনের পর দিন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কে-ফুটপাতে জমিয়ে রাখা হয়েছে এসব মালামাল।
সাম্প্রতিক সময়ে সরেজমিনে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে সব চিত্র। এর মধ্যে নগরীর ২ নং ও ৩ নং ওয়ার্ডের অন্তত দশটি এলাকার সড়ক ফুটপাত দখল হয়ে আছে ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রীতে। 
অন্য ওয়ার্ডের চিত্রও প্রায় একই। কুমিল্লা নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের উত্তর রেসকোর্স এলাকার সড়কটির দুই পাশে অন্ততপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। একই চিত্র দেখা গেছে ২ নং ওয়ার্ডের ছোটরা এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশেও। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে কারাগার ঘেঁষা ছোটরামুখী সড়কে ছোটরা পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত ৫/৬টি এলাকায় সড়ক ফুটপাত দখল করে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখতে দেখা গেছে। নগরীর ইসলামপুরেও একই চিত্র দেখা যায়। 
রাস্তার উপর ইট বালু সিমেন্ট রাখা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের সূচনা হয় বলেও খবর পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নাগরিকরাই জানান, এসব নির্মাণসামগ্রী রাস্তার উপর রাখা নিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বেরও সৃষ্টি হয়। এসব নিয়ে ভোগান্তির শিকার হলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলে বখাটেদের চক্ষুশূল হতে চান না বলে জানিয়েছেন নাগরিকরা।
তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরীর বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়ক-ফুটপাত দখল করে রাখার অধিকার কারোরই নেই। বিষয়টি আইনতও দণ্ডনীয়। কিন্তু সবকিছু তোয়াক্কা না করে অনেক ভবন মালিক দিনের পর দিন এই কাজ করে যাচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে অন্যদিকে কোথাও কোথাও সংকুচিত সড়ক এলাকায় তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এছাড়া বৃষ্টির এই মৌসুমে সড়কে ফেলে রাখা বালু ও সিলেকশন পানিতে ভেসে ড্রেনে চলে যায়। ফলে ওইসব ড্রেনের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়। এতে করে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার ফলে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার বিশিষ্ট নাগরিক আলহাজ্ব শাহ মো: আলমগীর খান বলেন, এটা কোনভাবেই কাম্য নয় কেউ রাস্তার উপর নির্মাণসামগ্রী রেখে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। সিটি কর্পোরেশন অনতিবিলম্বে এসব জায়গার মালিক বা ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নির্মাণ সামগ্রী যে শুধুমাত্র চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এমন নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় ট্রেন থেকে যে মাটি ও বালু তোলা হয় -সেসব বেশিরভাগই ভবন নির্মাণ কাজ চলার সময় ধুয়ে গিয়ে ড্রেনে জমা মাটি বালু। 
তবে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে আরো বেশি কঠোর হবার আহ্বান জানিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি- সনাক এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুল হুদা যেন বলেন, ভবনের মালিক ড্রেন এবং সড়কের ক্ষয়ক্ষতি করবে আর জনগণের টাকা দিয়ে সেটি মেরামত হবে তা কোনভাবেই হতে পারে না। বহুতল ভবন নির্মাণের সময় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ড্রেন এবং সড়কের ক্ষতিপূরণ সরূপ চুক্তির অর্থ আদায় করতে পারে। অপরদিকে নগরীর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের যেকোনো একটি এলাকায় নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা নির্ধারণ হতে পারে। যেখান থেকে ভবন মালিকরা তাদের মালামাল নিয়ে গিয়ে কাজ করবেন- বিনিময়ে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করবেন।
সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে নির্মাণ সামগ্রী রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন বাতিল হতে পারে জানিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন জানান, যারা রাস্তার উপর নির্মাণ সামগ্রী রেখে ভবন নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান করছি, এমনকি কোথাও কোথাও নির্মাণ সামগ্রী জব্দ ও জরিমানা করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অনুমোদিত ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা ও বাতিল হতে পারে। এজন্য বারবার নির্দেশনা ও সতর্কতাও দেয়া হচ্ছে। 
ভবন নির্মাণ আইনে বলা আছে নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন জানান, নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে ভালো সিমেন্ট পাথর ধুয়ে গিয়ে ড্রেন ও নালাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। যে কারণে জলবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ এসব ভবন নির্মাণ সামগ্রীও।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২