
ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বর্ষা মৌসুমে এ প্রকোপ আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিশেষ নজরদারি ও সমন্বয় সভা করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। পত্রিকান্তরে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। কোথাও স্প্রে সামান্য হচ্ছে, কোথাও ফগার মেশিনের ব্যবহারও অনিয়মিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের এলাকায় কোনো মশক নিধন কর্মী আসেন না। বাসাবাড়িতে আগের মতো লার্ভা শনাক্তকরণ অভিযানও এখন অনেকটাই বন্ধ। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, নির্মাণাধীন ভবন, খালি প্লট, ড্রেন ও খাল-নালায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ও গৃহস্থালির বর্জ্যে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন স্থির পানি জমে থেকে এডিস মশার নিরাপদ প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে থাকলেই সেখানে এডিস মশার ডিম ফুটে লার্ভা তৈরি হতে পারে।
অথচ রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পার্ক, খোলা জায়গা এবং জলাবদ্ধ এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। উত্তরেও একই অবস্থা দেখা গেছে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন, এসব স্থানে মশার বিস্তার হলেও নিয়মিত তদারকি বা লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রমের তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সচেতন মহলের প্রশ্ন থেকেই যায়, বছর বছর মশক নিধনের জন্য দুই সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও সুফল মেলে না কেন?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে চলতি বছর মোট ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ১৮ হাজার ১২৯ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৯ জন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিয়মিত মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, খাল-নালা পরিষ্কার রাখা এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদিও ইতোমধ্যে দুই সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তদারকির ঘাটতির কারণে রাজধানীর অনেক খাল-নালা, ড্রেন ও জলাবদ্ধ এলাকায় এখনো মশার বিস্তার অব্যাহত রয়েছে।
পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু কাগজে-কলমে প্রস্তুতি নিলে হবে না। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধব্যবস্থাও তেমন একটা চোখে পড়ছে না। এ অবস্থায় সরকারকে সমন্বিত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম বাড়াতে হবে। প্রস্তুতির ঘাটতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর তদারকি বাড়াতে হবে। ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে।
