বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ফের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার সেই লাইলী
শাহীন আলম
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫২ এএম আপডেট: ০৯.০৮.২০২৬ ২:০১ এএম |


 ফের হত্যাকাণ্ডের  অভিযোগে গ্রেপ্তার  সেই লাইলীপরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা ফেলায় পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমাকে গলাটিপে হত্যা করে বাবা আমির হোসেন ও পরকীয়া প্রেমিকা লাইলী আক্তার। ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বরের। ঘটনার পর পর দেশব্যাপী আলোচনায় আসে দেবিদ্বারের এই ঘটনা। ঘটনার তিন দিন পর  (১৭ নভেম্বর)  র‌্যাবের  ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে চালিয়ে শিশুটির বাবা আমির হোসেন ও পরকীয়া প্রেমিক লাইলী আক্তারসহ হত্যাকাণ্ডের জড়িত পাঁচ আসামীকে গ্রেপ্তার করে।
ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গত কয়েক মাস আগে কারাভোগ শেষে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পায় আমির হোসেন, লাইলী আক্তারসহ মামলার আসামী। ওই ঘটনার বিচার শেষ না হতেই ফের হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লো সেই লাইলী আক্তার।  
শনিবার (৮ আগস্ট) দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ‘ভূঁইয়া হাউজে’র বাড়ির মালিক বৃদ্ধা ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) কে হত্যার তার মরদেহের খণ্ডিত অংশ নয়টি পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পিছনে ফেলে রাখে লাইলী আক্তার। এই ঘটনায় ফের ঘাতক লাইলীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লাইলী আক্তার। তবে তার সঙ্গে আরও যে কয়েকজন জড়িত তাদের নামও প্রকাশ করেন। 
স্থানীয়রা জানায়, মাত্র ১২ দিন আগে ‘ভূঁইয়া হাউজ’র একটি ঘর ভাড়া নেয় লাইলী আক্তার। বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিনের  স্বামী মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামের জাহাজে চাকরি করায় ওখানে থাকেন। দুই মেয়ে বিয়ে হওয়ায় তার স্বামীর বাড়িতে থাকেন। ১০ বছর আগে একমাত্র ছেলে ইব্রাহিম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর পর থেকে বাড়িতে ফরিদা ইয়াসমিন একাই থাকতেন। এই সুযোগে লাইলী আক্তার বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং ঘরের কোথায় কোথায় স্বর্ণলংকার আছে তা সন্ধান করতে থাকেন। শনিবার সকালে  সুযোগ বুঝে লাইলী আক্তারসহ তার স্বামী আবুল কালাম, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরও তিন যুবক ডেকে এনে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করে তার মরদেহ খন্ড খন্ড করে ৯টি পলিথিন ব্যাগে মুড়িয়ে বাড়ির পিছনে ফেলে রাখেন। তবে মরদেহের মাথা ও দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানায় স্থানীয়রা। 
পরবর্তীতে লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কথাবার্তা অসঙ্গতিপূর্ণ ও সন্দেহজনক হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে জানানো হয় এবং লাইলীকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 
এ বিষয়ে দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া(সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো.শাহীন বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডেও জড়িত। শুনেছি সে কয়েক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পায়। এর পর বিভিন্ন জায়গা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।  প্রায় ১২ দিন আগে এই বাসায় ভাড়ায় উঠেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণলংকারের লোভে  তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আরও কয়েকজনের নাম পেয়েছি তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।   















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২