কুমিল্লায়
অনুষ্ঠিত মাহবুব আলী জাকি স্মৃতি অনূর্ধ্ব–১৭ টি–২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ইলাভেন স্টার ক্লাবের আয়োজনে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে
দিনভর ম্যাচ দুটিতে তরুণ ক্রিকেটারদের দারুণ নৈপুণ্য দেখা যায়।
দিনের
প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইউনিটি ক্রিকেট একাডেমি ও স্টার ক্রিকেট একাডেমি।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে ইউনিটি ক্রিকেট একাডেমি। নির্ধারিত ২০
ওভারে তারা ৮ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে নুর মোরশেদ
সর্বোচ্চ ১৯ এবং নাহিদ ১৭ রান করেন। স্টার ক্রিকেট একাডেমির বোলার সিফাত,
ইমাজ ও মুস্তাফিজুর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে
রাখেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্টার ক্রিকেট একাডেমি মাত্র ৬.৪
ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ব্রিহাত অপরাজিত ২৮ রান করেন এবং
ইফাদ ৩১ রান করে অবসর নেন। ফলে ৯ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় স্টার ক্রিকেট
একাডেমি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ইমাজ উদ্দিন ম্যাচসেরা নির্বাচিত
হন।
দিনের
দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ক্রিকেট কোচিং সেন্টার মুখোমুখি হয় কুমিল্লা
টাইগার্স ক্রিকেট একাডেমির। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়
কুমিল্লা ক্রিকেট কোচিং সেন্টার। নির্ধারিত ১৮ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা
১১৭ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে প্রান্ত ৩৬, শাহাদাত ২৯ ও ফাইয়াজ ২২ রান
করেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ২৯ রান। কুমিল্লা টাইগার্সের বোলার রাজিন ৩ ওভারে
২৭ রান দিয়ে ১টি এবং প্রান্ত ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।
জবাবে
কুমিল্লা টাইগার্স ১৭.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান সংগ্রহ করে ৩ উইকেটের
রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয়। দলের পক্ষে পার্থ রায় অপরাজিত ৩৪, লাবিব ২৬ ও
হাসিবুল ১৬ রান করেন। কুমিল্লা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের বোলার শাহাদাত ৪
ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য প্রান্ত
ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
আয়োজকরা জানান, তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা
বিকাশ এবং ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের
আয়োজন করা হয়েছে। কুমিল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন একাডেমির একাধিক দল এতে অংশ
নিচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ
ক্রিকেটার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসের প্রাথমিক দল গঠন

সাউথ
এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ানশিপ সামনে রেখে দল গঠনের জন্য বাছাই
প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন। শহীদ তাজউদ্দিন
আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনব্যাপী সেই বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে
শুক্রবার। অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগের বালক ও বালিকা মিলিয়ে ৩২ জন
অংশ নিয়েছিলেন বাছাইয়ে। সেখান থেকে ১৬ জন নিয়ে প্রাথমিক দল গঠন করেছে
ফেডারেশন।
বাছাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছে মো.
নাফিজ ইকবাল এবং একই বিভাগে সেরা বালিকা খেলোয়াড় হয়েছেন খই খই সাই মারমা।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক বিভাগে মো. শাহীন আহম্মেদ এবং বালিকা বিভাগে জান্নাত
ইসলাম রোজা সেরা হয়েছেন। চারজনই বিকেএসপির শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর ২ জন এবং রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ১ জন খেলোয়াড় মনোনীত
হয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বাছাইয়ে খই খই সাই মারমা এবং জান্নাত ইসলাম রোজা
১২ খেলার সবগুলোতে জয়লাভ করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
অনূর্ধ্ব-১৯
বালক বিভাগের নির্বাচিত বাকি সবাই বিকেএসপির। তারা হলন-আবুল হাসেম হাসিব,
তাহমিদুর রহমান সাকিব এবং মো. মনিরুল ইসলাম। অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা বিভাগের
বাকি নির্বাচিত খেলোয়াড় হলেন-বিকেএসপির রেশমী তঞ্চংগ্যা, বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর ঐশী রহমান ও বিকেএসপির নুসরাত জাহান অনন্যা।
অনূর্ধ্ব-১৫
বালক বিভাগের বাকি নির্বাচিত খেলোয়াড়গন হলেন- বিকেএসপির মো. মৃদুল রহমান,
তাহমিদুল ইসলাম পরশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মো. রাব্বী ইসলাম ।
অনূর্ধ্ব-১৫
বালিকা বিভাগের বাকি নির্বাচিত খেলোয়াড়গন হলেন- বিকেএসপির রাফিয়া চৌধুরী,
রংপুর জেলার জান্নাতুল রোজা এবং বিকেএসপির সাবিয়া আক্তার পাপিয়া।
বাংলাদেশ
টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট
বলেছেন, ‘সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ানশিপের ফিকশ্চার ঘোষণা না
হলেও আমরা দলের অগ্রমিক প্রস্তুতির জন্য খেলোয়াড় বাছাই করে রাখলাম।
বিকেএসপির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।’