রামাদ্বান
এমন একটি মাস যার মধ্যে রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের পাশাপাশি আমাদের সুস্থতার
বিশাল নিয়ামত ও চর্চা বিদ্যমান যদি আমরা তা যথাযথভাবে মেনে চলতে পারি।
দেখুন
তিনটি জিনিস যদি আমরা মেনে চলতে পারি তাহলে সন্মান, সুস্বাস্থসহ সব ধরণের
উপকার আমরা পেতে পারি। আর এই তিনটি জিনিসের চর্চা বা অনুশীলন করা সম্ভব এই
রামাদ্বান মাসে।
০১. কম কথা বলা- আমাদের সমস্ত সমস্যার শুরু হয় এই মুখ বা জবান থেকে। যে ব্যাক্তি এই জবান এবং
হাতকে
সংযত করতে পেরেছে সে তত নিরাপদ থেকেছে। এই জন্যই রাসুল করিম দঃ ঘোষনা
করেছেন যে ব্যাক্তির জবান এবং হাত অন্য জনকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে
পেরেছে সে প্রকৃত মুসলমান। রামদ্বানে অধিক পরিমান জিকিরের এবং কুরআন
তিলাওয়াতের তাকিদ দেওয়া হয়েছে। বেশী ও অনর্থক কথা বলা দ্বারা যেমনি ভাবে
শরীরিক শক্তি হ্রাস পায় তেমনি ভাবে মানসিক ভাবেও মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই
দিক দিয়ে রামাদ্বান আমাদের বিরাট সহায়ক।
০২. কম ঘুমানো- ইবাদতের মাস এই
রামাডান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ ২০ রাকাত তারাবীহর নামাজ ও অন্যান্য নফল
ইবাদতের চর্চা এই মাসেই বেশি সম্ভব। আমরা আমাদের সুস্থতার জন্য দৈনিক ৬
থেকে ৭ঘন্টা ঘুমই যথেষ্ট। এর বেশি ঘুম আমাদের শরীরে ফ্যাট, অলসতা ও
দূর্বলতার সৃষ্টি করে। তাছাড়া নামাজ এমন একটি ইবাদত যার মধ্যে উপাসনার
পাশাপাশি শারিরি ব্যায়ামও হয়ে যায়। আমাদের শরিরের প্রত্যেকটি জয়েন্ট এবং
হাত-পায়ের আঙ্গুল মোট কথা পুরো বডির ব্যায়াম হয়ে যায়। রামাদ্বান মাসে
স্বাভাবিক ভাবেই যেহেতু নামাজ বেশি আদায় করা হয় আর এ কারণে আমাদের ঘুমের
পরিমানও কমে যায় তাই আমরা অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসেই সুস্থ বেশি থাকি।
আলহামদু লিল্লাহ।
০৩. কম খাওয়া- এই জায়গাটিতে আমরা নিজকে নিয়ন্ত্রন করতে পারিনা। যার কারণে রোগ বালাই লেগেই
থাকে।
কলেস্টোরল, ডায়বেটিস, রক্তে চর্বি বেশি হওয়া, ফ্যাটি লিভার, হার্টের ব্লক
আরও কতকি? সবই হয় এই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে। একে নিয়ন্ত্রণ করা
সম্ভব যদি আমরা রামাদ্বানের খাদ্যভ্যাসের নিয়ম মেনে চলি। সাহরীতে ও ইফতারে
নিয়ন্ত্রিত খাদ্য অপরিহার্য্য। কিন্তু আমরা করি তার ব্যাতিক্রম। যে পরিমান
খাদ্য আমরা শুধুমাত্র ইফতারিতে গ্রহণ করি অন্য সময় সারাদিন মিলিয়েও এত
খাদ্য আমরা খাইনা। হরেক রকমের ইফতারি আর তা যদি হয় কোন ইফতার পার্টি বা
ইফতার মাহফিল তাহলেতো কথাই নেই। বিরিয়ানী, তেলে? ভাজা বিভিন্ন আইটেম,
বিভিন্ন প্রকার মিষ্টান্ন ইত্যাদিতে ভরপুর থাকে আমাদের ইফতারীর টেবিল। অথচ
কম খাওয়ার দ্বারাই মানুষ সুস্ততা লাভ করে। যেটা অনুশিলন করা সম্ভব ছিল এই
রামাদ্বান মাসে। আমরা তা পালন করিনা।
আসুন বাকী যে কয়টা রোজা বাকি আছে
এগুলোতে আমরা খাদ্য গ্রহণে সংযত হই এবং ইবাদতের সাথে সাথে স্বাস্থগত ভাবেও
নিজকে তৈরী করে তুলি। নিজেও সুস্থ্য থাকি অন্যকেও সুস্থ্য রাখি।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুস্থ্যতার নেয়ামতের সাথে সাথে একজন পরিপূর্ণ মুমিন হিসাবে কবুল করুন। আমিন।
প্রধান ইমাম ও খতীব কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
