বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মেয়ে ও নাতির হত্যাকাণ্ডের বিচার চান আব্দুর রশিদ
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫১ এএম আপডেট: ১৮.০২.২০২৬ ১:৩৩ এএম |




  মেয়ে ও নাতির হত্যাকাণ্ডের  বিচার চান আব্দুর রশিদ নিজস্ব প্রতিবেদক।। মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ৮৫ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ। কখনো শোকের ভারে মাটিতে ঢলে পড়ছেন, কখনো আবার মাটিতে গড়িয়ে পড়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন। চোখের পানি থামছে না, বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে পুরো আঙিনা। ঘরের ভেতরে পড়ে থাকা আদরের মেয়ে পাপিয়া আক্তার সখি ও চার বছর বয়সী নাতি হোসাইনের নিথর দেহ। শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য কত আকুতিই না জানালেন তিনি। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট হতে পারে এই আশঙ্কায় সিআইডি ও ডিবির গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা কোনোভাবেই তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।
মঙ্গলবার কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের বাড়িতে দুই শিশুসহ এক নারীকে জবাই করে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন আব্দুর রশিদ। এসেছিলেন শুধু শেষবারের মতো মেয়ে পাপিয়া ও নাতি হোসাইনকে দেখতে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আগের দিন সোমবার সকালেই মেয়ে ও নাতির সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়। পাশের মনিপুর বাজারে বাজার করতে এসে মূলত মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেই এসেছিলেন তিনি। পাশের চান্দেরচর গ্রামেই তার বাড়ি। পাঁচ মেয়ের মধ্যে পাপিয়া ছিলেন তার চতুর্থ সন্তান। মেয়ের সঙ্গে বেশি কথা না হলেও নাতি হোসাইন ছিল তার প্রাণের টুকরো। সেদিন নানার কাছে দশ টাকার বায়না ধরেছিল হোসাইন। আদরের নাতিকে দশ টাকা দিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন তিনি। সেই ছোট্ট মুহূর্তটাই যে জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি।
মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে ভেঙে পড়া এই বৃদ্ধ শুধু ন্যায়বিচারই চান। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি এই হত্যার বিচার হোক। বিচার না হলে আমার আর কিছু করার সামর্থ্য নেই। আমি অসহায়। প্রশাসন যেন দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দেশের প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করেন।
সোমবার রাতে হোমনার মনিপুর গ্ৰামের কোনো এক সময় দুই শিশুসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী সুখী আক্তার, তাদের চার বছর বয়সী ছেলে হোসাইন এবং জহিরুল ইসলামের ছোট ভাই প্রবাসী সাত্তারের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জোবায়ের।
শিশু জোবায়েরের মা লিপি আক্তার জানান, সোমবার রাতে তার ছেলে জোবায়ের তার জা পাপিয়া আক্তার শখির বাসায় ঘুমাতে যায়। ওই রাতে একই বাসায় শখি, তার চার বছর বয়সী ছেলে হোসাইন ও জোবায়ের ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে দেরি হয়ে যাওয়ায় দরজায় ধাক্কা দিলে ভেতরে ঢুকে তিনজনের মরদেহ আলাদা আলাদা কক্ষে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যেকের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
হোমনা থানার ওসি মোরশেদুল আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি এবং ফোনটি বন্ধ রয়েছে। পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাদের হত্যা করে মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি আরবে রোজা শুরু বুধবার
মন্ত্রিসভায় কুমিল্লার তিনজন
ছিলেন বঞ্চিত, পেলেন মন্ত্রীত্ব
কুমিল্লায় উচ্ছসিত নেতাকর্মীরা
সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরেই শপথ নিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
৪৯ সদস্যের মন্ত্রী পরিষদ গঠন করল বিএনপি
রোজায় স্কুল বন্ধ রাখতে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত
এমপি-মন্ত্রিদের শপথ আজ
কুমিল্লায় সূর্যমুখী চাষে সফল কৃষক সামসুল হক মজুমদার
কুসিক প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নবগঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ঐক্য পরিষদের ফুলেল শুভেচ্ছা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২