মো. হাবিবুর রহমান ।।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার মুরাদনগরে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়াপ্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের যথাযথ বিকাশের লক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত ও উদ্দীপনাময় পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রীয় এই আয়োজনের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয় মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনের পরপরই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা চত্বরের বিভিন্নগুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বিভিন্ন বয়সের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা রঙের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন এবং ক্রীড়াভিত্তিক বিভিন্নস্লোগান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খাঁন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল খন্দকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমির হোসেন ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুফি আহমেদসহ বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা অংশ নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে সুপ্ত ক্রীড়াপ্রতিভাকে আলোর মুখ দেখানো এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের পথ সুগম করা। বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সৃজনশীল এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি খেলাধুলাকে একটি সম্ভাবনাময় ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আয়োজকরা মনে করেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজ থেকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড অনেকাংশেই কমে আসবে।
মুরাদনগরের ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রতিভাদের মূলধারায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়দের জোরালো প্রত্যাশা, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মুরাদনগরের অলিগলিতে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাময় ও মেধাবী ক্রীড়াবিদরা নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ পাবে। সঠিক পরিচর্যা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে একদিন এই তরুণরাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্ব দরবারে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরবে।
