
বিদায়টা অন্যভাবেও হতে পারতো। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির মতোই হয়তো রাজসিক বিদায় পেতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হয়তো অভিমানেই আর জাতীয় দলে ফিরতে চাইলেন না তিনি। তবে পেছনে রেখে গেলেন মহাকাব্যিক এক ক্যারিয়ার।
নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য কোচ দল ঘোষণার আগেই জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটাই পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।
শুরুটা হয়েছিল ২০০৩ সালের ২০ অগাস্ট। কাজাখস্তানের বিপক্ষে বদলি নেমেছিলেন সেই সময়ের ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার রোনালদো। এরপর কত পথ পাড়ি দিয়ে তিনি উঠে আসেন চূড়ায়।
২০০৪ ইউরোতে গ্রিসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের দেখা পান তিনি। ২৩ বছর দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি ২৩৪ ম্যাচ ১৪৬ গোল নিয়ে। তার ধারে কাছে নেই কেউ। ম্যাচ ও গোল- দুটোই পর্তুগালের সর্বোচ্চ তো বটেই, বিশ্ব রেকর্ডও। পর্তুগালের হয়ে ৪৫টি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি।
দেশের প্রথম বড় শিরোপা- ২০১৬ ইউরো জয়ে অধিনায়ক ছিলেন রোনালদো। পরে দুটি নেশন্স লিগ জয়েও দেশকে নেতৃত্ব দেন।
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাস্রের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন রোনালদো। তার সামনে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শের হাতছানি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত করেছেন ৯৮৫ গোল।
২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেন রোনালদো। গড়েন পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে (২১ বছর ১৩২ দিন) গোল করার কীর্তি। সেবার সেমি-ফাইনালে খেলে পর্তুগাল।
মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন রোনালদো। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ছয় আসরে গোল করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল করেছেন রোনালদো, এর একটি নকআউট পর্বে।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। এগিয়ে কেবল মেসি। ইউরোপ সেরার মঞ্চে সবচেয়ে বেশি ১৩ ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। সবচেয়ে বেশি ছয় আসরে খেলেছেন তিনি, অংশ নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচে।
ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে সবচেয়ে বেশি ১৪ গোল করেছেন রোনালদো। বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি ৪১ গোলও তার। স্বাভাবিকভাবেই বাছাই ও চূড়ান্ত মিলিয়ে ৫৫ গোল করে তিনিই চূড়ায়। ইউরোর সবচেয়ে বেশি- পাঁচ আসরে গোলের কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। কেবল সবশেষ আসরে জালের দেখা পাননি তিনি।
