
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক সেবাগ্রহীতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকিয়ে ওই সেবাগ্রহীতাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম রবিন জানান, তার বোনকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে এসে তিনি বারবার হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং অভিযোগ করতে গেলে মারধরের শিকার হন। তবে নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ের দাবি, রবিন নিজেই পরিস্থিতি উত্ত্যক্ত করে ঘটনা তৈরি করেন। এটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা।
মারধরের শিকার যুবকের নাম রবিউল ইসলাম রবিন। তিনি আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের কক্ষে কয়েকজন কর্মচারী রবিউল ইসলামকে জাপটে ধরে রেখেছেন। এ সময় কয়েকজনকে তাকে আঘাত করতে দেখা যায়। একজনকে তার গলা চেপে ধরতেও দেখা গেছে। একপর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে হইচই শুরু হয়। পরে কর্মচারীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, তাকে কক্ষের দরজা বন্ধ করে মারধর করা হয়। পরে দরজা খুলে তাকে বের করে দেওয়া হয়।ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম রবিন জানান, তার বোন সোমাইয়া আক্তার স্বপ্নার জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসেছেন। প্রতিবারই বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। বুধবার অফিসের এক কর্মচারী তার কাছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিলে কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন ওই কর্মচারী। তবে তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রবিন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নির্বাচন অফিসে যান। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবিউল ইসলাম যে কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন, সেগুলোতে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। তার বাবা দুটি বিয়ে করেছেন, কিন্তু ওয়ারিশ সনদে সেই তথ্য গোপন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বোন স্বপ্নার জন্ম ২০০২ সালে হলেও সনদে ১৯৭৫ সাল উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কাগজপত্র সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছিল।
নির্বাচন কর্মকর্তা আরও বলেন, বিষয়টি সমাধানে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি যাচাই করে জানাবেন বলে জানান। কিন্তু রবিউল তাকে গালাগাল করেন এবং উত্তেজিত হয়ে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে কর্মচারীরা তাকে চেয়ারে বসতে বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিওতে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেটি ওই ঘটনারই চিত্র। তবে তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য ওই যুবক এসেছিলেন, বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সেবা গ্রহীতাকে মারধরের বিষয়টি যেমন ঠিক হয়নি তেমনি তিনিও সঠিক আচরণ করেননি। এ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে কার দায় সেটি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।
