এবার স্পেন, জার্মানি ও হংকংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা চালু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এ লক্ষ্যে চলতি মাসে হংকং ও জার্মানিতে নির্বাচন কমিশন-ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কারিগরি দল যাবে, এরপর ডিসেম্বরে যাবে স্পেনে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য দিয়েছেন।
ইসির প্রশাসনিক ও কারিগরি দল দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিসের লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে, ডেটা কানেকটিভিটির ব্যবস্থা করে ধাপে ধাপে নিবন্ধন কার্যক্রমের ‘টেস্ট ট্রায়াল’ করবে, বলেন তিনি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত ১৭টি দেশের ২৭টি মিশনে এক লাখ ৮ হাজার ২০৬ জন আবেদন জমা পড়েছে। এরমধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট করা হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৭১৬ প্রিন্ট করার উপযোগী রয়েছে।
যেসব দেশ ও স্টেশনে এ সেবা চালু হয়েছে, সেগুলো হল- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম, ইতালির রোম ও মিলান। কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা, সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো, জাপানের টোকিও। আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাস্কাট, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া, বাহরাইনের মানামা, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর সিপি ও সুইডেনের স্টকহোম।
>> ২ নভেম্বর পর্যন্ত মিশন থেকে বায়োমেট্রিক গ্রহণের সংখ্যা ৬৫,৯৫৯।
>> মিশন থেকে এ পর্যন্ত আপলোড হয়েছে ৫০,৫৪৫ আর আপলোডের অপেক্ষায় ৮,৭৬৩।
>> তদন্ত শেষ হয়ে আবেদন অনুমোদন হয়েছে ৫৯,৩১৭ আর অনুমোদনের অপেক্ষায় ২,১৩২। তদন্তে বাতিল ৩৭,৬৯২ আবেদন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহেমানেল মাছউদ জানান, বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। কাজেই তাদের বাদ দিয়ে এনআইডি কার্ড না দিলে তারা কোথায় করবেন? এজন্য কেউ কেউ দেশে এসে করেন। প্রবাসেও যাতে করা যায় সেজন্য এনআইডি সেবার জন্য সরকারের সাথে আলোচনা রয়েছে। এখন সেখানে পর্যায়ক্রমে, যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেসব দেশে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এখন আমরা স্পেন, জার্মানি, হংকংয়ে কাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছি। একেক সময় ইসি সচিবালয় ও এনআইডি উইংয়ের একেক দল যাবে। চলতি মাসে দুই দল যাবে। ওই দল আসার পর আবার আরেক দল যাবে।”
সবশেষ বাহরাইনে এনআইডি সেবা চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রবাসে খুব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। যাতে মানুষ হাতের কাছে নিবন্ধন করতে পারে, বায়োমেট্রিক দিতে পারে, ফটো নিতে পারে।
দূতাবাস ও মিশনে যন্ত্র স্থাপন করার পর কারিগরি দল যাবে; তারা লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেবে ও ভোটারদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে। নিবন্ধনের পর দেশে তদন্ত শেষে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে এনআইডি দেওয়া হবে।
২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরুর সময়ই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করা ও এনআইডি দেওয়ার দাবি ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা পেরিয়ে তৎকালীন কে এম নূরুল হুদা কমিশন কাজ শুরু করে।
নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাথমিকভাবে ৪০টি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরমধ্যে রয়েছে-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, হংকং, মিশর, ব্রুনাই, মরিশাস, ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, স্পেন, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক ও সাইপ্রাস।
২০১৯ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনলাইন নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করে ইসি। কিন্তু এরপর কোভিড মহামারীতে সেই উদ্যোগ থমকে যায়। পরে আবার সেই কাজে গতি আনার উদ্যোগ নিলেও গত কমিশনের সময় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কার্যক্রম শুরু হয়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আবার স্থবিরতা দেখা দেয় এ কার্যক্রমে। বর্তমান এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন কার্যক্রম শুরু করে।
এর ধারাবাকিতায় বর্তমানে ১৭টি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
ইসির অধীনে প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ করা হয়।
