মো. হাবিবুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন ।।
সরকারের মেগা প্রকল্প শ্যামপুর-কুমিল্লা ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড (উড়াল) রেলপথে কুমিল্লার তিতাস ও দেবিদ্বারে স্টেশন প্রস্তাব করা হলেও বাদ পড়েছে ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল মুরাদনগর। গ্যাসসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় এই উপজেলাকে বাদ দিয়ে রেলপথের নকশা করার খবরে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে স্থানীয়রা। উন্নয়নের এই মহাসড়ক থেকে মুরাদনগরকে যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত করা না হয় এই দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সর্বস্তরের জনগণ।
মঙ্গলবার মুরাদনগর উপজেলার বাঁশকাইট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সর্বস্তরের পেশাজীবী, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা স্পষ্ট জানায়, মুরাদনগরে রেলস্টেশন নির্মাণ ছাড়া এই উড়াল রেলপথের পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
দক্ষিণ মুরাদনগর কল্যাণ সমিতির সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং মোতাহের হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, রেল যোগাযোগ একটি এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটতে হয়। মুরাদনগরে একটি স্টেশন নির্মিত হলে যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটবে। অথচ পুরো প্রকল্প থেকে এমন একটি প্রাণবন্ত জনপদকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
মানববন্ধনে অবিলম্বে প্রস্তাবিত রেলপথের নকশা ও স্টেশন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে মুরাদনগরে স্টেশন যুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের এই যৌক্তিক দাবি পূরণ না হলে এলাকার এক বিশাল জনগোষ্ঠী আধুনিক যাতায়াত সুবিধা থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত হবে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ মুরাদনগর কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি আব্দুল আজিজ মোল্লা, বাঁশকাইট ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমির হোসেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম সিরাজুল ইসলাম কালাম, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ একেএম কায়েস, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, কাজি আব্দুস সালাম, কামরুজ্জামান, দুবাই প্রবাসী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গাজী, বাঁশকাইট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, পি.জে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু তাহের, শরমাকান্দা মাদ্রাসার শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন এবং বিএনপি নেতা তছলিম আহম্মেদ খোকন ও সোহেল সিকদার প্রমুখ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থানীয়দের এই প্রাণের দাবি আমলে নিয়ে চূড়ান্ত নকশায় মুরাদনগর রেলস্টেশন অন্তর্ভুক্ত করবে।
