প্রদীপ মজুমদার :
কুমিল্লার লালমাই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আক্তার শিফা, লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আফরোজ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদুল্লাহ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম এবং পেরুল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মজুমদার দুলাল। এছাড়া অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবালসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, “আমি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে চাই। আপনারা অবগত আছেন, গত সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। এর পেছনে আমার কিছুটা রাগ, কিছুটা অভিমান এবং কিছুটা ব্যর্থতার অনুভূতি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আজ একটি সভা করব। এই সভার পর যদি সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে অযথা এখানে এসে সময় নষ্ট করার কোনো অর্থ হয় না। সভা হতে হবে এজেন্ডাভিত্তিক। একটি কাজ শুরু করব, হয়তো তার শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ কাজও যদি বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ করে শুধু সভায় অংশ নিতে আমি আসব না। আমি আসব কাজ করার জন্য। আমার জন্ম হয়েছে কাজ করার জন্য।
এ সময় তিনি বলেন, “গত ১২ তারিখ জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ তিনি মেনে নেবেন না বলেও মন্তব্য করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় উপস্থিত বক্তারা উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, পল্লী বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে তিনি যুব দিবস উপলক্ষে যুব র্যালী ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
