সৌরভ মাহমুদ হারুন ।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশ। উপজেলার ১০টি কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৬৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪১৯ জন। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৬৯ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুড়িচংয়ের কলেজগুলোর মধ্যে পরীক্ষার্থী, উত্তীর্ণ ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্নতা রয়েছে। ফলাফলে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি অকৃতকার্যদের সংখ্যাও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
এদিকে, এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের মোট ১১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ২২ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ এইচএসসি ও এইচএসসি (বিএম)-উভয় ধারাতেই বুড়িচংয়ের শিক্ষার্থীরা সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। তবে সামগ্রিক ফলাফলে আরও উন্নতি এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আলিম পরীক্ষা ঃ অপরদিকেউপজেলায় আলিম পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ। উপজেলার ১৪টি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৮৬ জন। এ ছাড়া ১১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ১৪টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো কোনো মাদ্রাসায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার তুলনামূলক কম।
সামগ্রিক ফলাফলে ২১৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও ৮৬ জনের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, পাঠদানে কার্যকর তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।
