
আন্তর্জাতিক আর্চারিতে বাংলাদেশের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও ১০টি পদক। ইরাকের সুলায়মানিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া কাপ আর্চারি ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট, স্টেজ-২, ২০২৬’ থেকে ৩টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১০টি পদক জিতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় আর্চারি দল।
রোববার (১ নভেম্বর) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় দলটি। এ সময় আর্চারদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক মো. রুবেল হোসেন ও সোহেল রানাসহ ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর সুলায়মানিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড, দুই বিভাগেই নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের আর্চাররা। এবারের আসরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে। কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জেতে বাংলাদেশ। আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফির সমন্বয়ে গড়া দলটি এই ঐতিহাসিক অর্জন এনে দেয় দেশকে।
কম্পাউন্ড নারী দলীয় ইভেন্টেও স্বর্ণ জিতেছে বাংলাদেশ। বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনির দল কাজাখস্তানকে ২৩০-২২০ স্কোরে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া কম্পাউন্ড নারী ব্যক্তিগত ইভেন্টে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণ জেতেন বন্যা আক্তার। এশিয়া কাপে এটিই তার প্রথম ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক।
দেশে ফিরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বন্যা বলেন, এই অর্জন তাকে আরও বড় স্বপ্ন দেখাবে। বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এবারের সাফল্য। অন্যদিকে রিকার্ভ পুরুষ দলের স্বর্ণজয়ী আর্চাররা তাদের অর্জনকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তারা।
দলের টিম ম্যানেজার তাজুল হোসেন বাপ্পী আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি ও নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, আর্চারির মতো মনোযোগ ও মানসিক দৃঢ়তানির্ভর খেলায় ভালো ফলের জন্য প্রয়োজন অনুকূল প্রশিক্ষণ পরিবেশ, পর্যাপ্ত অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ।
প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক জানান, এবারের দলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ আর্চার ছিলেন। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই দল গঠন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পরিবেশে বড় দর্শকের সামনে ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে দেশের ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। তিনি জানান, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদকে মাসিক এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বার্ষিক সূচি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ নয়, বরং পদক জয়ের সক্ষমতা তৈরি করা, এমনটাই উল্লেখ করেন ভারপ্রাপ্ত সচিব।
