সংগীতসম্রাটের স্মৃতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন---
নিজস্ব প্রতিবেদক: উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও সুরস্রষ্টা শচীন দেব বর্মণের জীবন, কর্ম ও সংগীত-অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কুমিল্লায় শুরু হয়েছে ‘শচীন মেলা-২০২৬’।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী দিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় কুমিল্লার এই গুণী সন্তানকে।
শুক্রবার বিকালে কুমিল্লার ইউসুফ হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শচীন দেব বর্মণের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও শচীন মেলার আহবায়ক আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান, লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, কুমিল্লা মহানগর জাসাসের সভাপতি ডা. আহসান আনিস এবং ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাহাতাব সোহেল ও ডা. রোমানা রুমী। সাংস্কৃতিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন জেলা কালচারাল অফিসার এস এম টি কামরান হাসান।উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শওকত আলী বকুল।
এতে শিশু বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেয় কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইত্তিহাদ আহমেদ নন্দিত। শচীন দেব বর্মণের জীবন ও সংগীত-অবদান নিয়ে তার বক্তব্য উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংগীতসম্রাট শচীন দেব বর্মণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শচীন দেব বর্মণ ছিলেন বাংলা ও হিন্দি সংগীতের এক কালজয়ী সুরস্রষ্টা। তাঁর অসাধারণ সংগীতপ্রতিভা ও সুরের বৈচিত্র্য উপমহাদেশের সংগীতজগতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তির সৃষ্টিকর্ম শুধু সংগীতের সম্পদ নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বক্তারা বলেন, শচীন দেব বর্মণের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁর জীবন ও সংগীতসাধনা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর জন্মভূমি কুমিল্লায় নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে এই কিংবদন্তির অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শচীন দেব বর্মণ ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ও হিন্দি সংগীতে অসামান্য অবদান রেখে তিনি উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নেন। তাঁর কালজয়ী সুর ও গান আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ ও সংগীত-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত হয়েছে এবারের শচীন মেলা।
