ইসমাইল নয়ন।।
উপজেলার গোমতী নদীর চরের পলিমাটি ভেদ করে সবুজ পাতার ডগায় এখন সোনালী স্বপ্নের জাল বুনছেন কৃষক। অনুকূল আবহাওয়া আর পরিশ্রমে ব্রাহ্মণপাড়ার মালাপাড়া ইউনিয়নের গোমতীর চরে আগাম জাতের খিরা চাষে বাম্পার ফলনের আশা দেখছেন কৃষকরা। অল্প কিছুদিন পরেই ক্ষেত থেকে খিরা তুলে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন বলে বুকভরা আশা চাষি মো. বাবুল মিয়ার।
উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চন্ডিপুর এলাকার গোমতীর চরে গিয়ে দেখা যায়, চাষি মো. বাবুল মিয়া তার ৪৬ শতাংশ চরের জমিতে আগাম জাতের খিরা চাষের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। খিরার গাছগুলোর লতাপাতা ও ডগা মেলে ইতিমধ্যে পুরো জমি সবুজ হয়ে ভরে উঠেছে।
নিজের খিরা চাষের বিষয়ে কৃষক মো. বাবুল মিয়া বলেন, 'আমার ৪৬ শতাংশ জমিতে খিরা চাষে সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি, সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে এই খিরা খেত থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারব।'
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে যেসব এলাকায় আমন আবাদ করা সম্ভব হয় না, সেসব চরাঞ্চল ও নিচু জমিতে আগাম শাকসবজি আবাদ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। এ বছর খরিপ-২ মৌসুমে ৯৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম শাকসবজি আবাদ হয়েছে, যার সিংহভাগই মালাপাড়া ইউনিয়নের গোমতী চর এলাকা কেন্দ্রিক। বর্তমানে গোমতীর চরের মাঠগুলো আগাম খিরা শসা, লালশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মূলাসহ নানা ধরনের ফসলে ভরে উঠেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন জানান, যেসকল এলাকায় আমন আবাদ করা যায় না, সেসব জমিতে আগাম শাকসবজি আবাদ করে কৃষকেরা দারুণ লাভের মুখ দেখছেন। গোমতীর চরের পলিমাটি শাকসবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলের কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।
