
সত্তরের দশক। কুমিল্লা হাই স্কুলের ছাত্র-থাকতাম মুন্সেফ কোয়ার্টার। মিশনারী স্কুলের সামনে দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতাম। একটা ঈর্ষা মনের মাঝে বয়ে যেত ঐ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দেখে; মাঝে মাঝে ভেংচি কাটতাম ওদের দেখে। কিন্তু মনের গহীন কোনে একটা গোপন অভিলাষ ছিল “আহ! মিশনারী স্কুলে যদি পড়তে পারতাম”।
আজ আমি গর্বিত আমি পড়তে পারিনি ত’কি হয়েছে? আমার দুটি মেয়ে, আমার যক্ষের ধন দু’জনই আওয়ার লেডী অব্ ফাতিমা গার্লস হাই স্কুলের তথা মিশনারী স্কুলের ছাত্রী এবং আমি তাদের পিতৃত্বের সুবাদে ঐ স্কুলের সাথে সম্পৃক্ত। ’৯৩ সালে যখন আমার মেয়ে তৃনা স্কুলে কেজি শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলো সেদিন থেকেই আমার স্নেহ মমতা স্কুলের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য; নিজে নিজেই শুভানুধ্যায়ী বনে গেলাম। ব্যাপারটি চোখ এড়াইনি সে সময়ের প্রধান শিক্ষয়ত্রী সিষ্টার মেরী দীপ্তির। তিনিও আমাকে গ্রহণ করলেন স্কুলের একজন শুভানুধ্যায়ী হিসেবে। অত্যন্ত তীক্ষ্ম বুদ্ধি সম্পন্ন ছিলেন সিষ্টার, ভালো কাজের মুল্যায়ন করতে জানতেন। যে জন্য তার সময় ১৯৯৮ সালে স্কুলটি শ্রেষ্ঠ স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ পদক পান। অনেক গঠনমূলক সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করেছি তার নিরব সমর্থনে তার মধ্যে ‘অভিভাবক দিবস’ অন্যতম। এই আভভাবক দিবসেই আইনমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে যখন মঞ্চে উপবিষ্ট, সিষ্টারও মঞ্চে আমি বললাম সিষ্টার, টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের একটা রিকমনন্ডেশন নিয়ে রাখি। সিষ্টার অনুমতি দিলেন, স্কুল থেকে পেড এনে নিজ হাতে আবেদন লিখলাম, সিষ্টার বললেন, আপনিই সাইন করুন অভিভাবক হিসেবে। তবুও সিষ্টারের সাক্ষরেই মন্ত্রী মহোদয়ের স্বাক্ষর নিলাম এবং বিটিভিতে স্কুলের একটি সুন্দর অনুষ্ঠান উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি যা বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছে। একবার শিক্ষা সফরে চট্টগ্রাম যেয়ে সিএমপি ডিসি মালিক খসরুর সহযোগতিয়া ছাত্রীদের চট্টগ্রাম পোর্টে নিয়ে ফ্রান্সের শীপে উঠে ছাত্রীদের দেখিয়ে এনেছি।
’৯৮ এর বন্যার একটি ঘটনা। স্কুল থেকে চাঁদা তুলে আগেই বন্যা ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমার মনে একটা ইচ্ছে ছিল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সরাসরি ত্রাণে অংশগ্রহণ করানো। বড় সিষ্টারকে বললাম, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ হাতে রুটি বানিয়ে বন্যার্তদের জন্যে পাঠালে কেমন হয়। বড় সিষ্টার বিষয়টি গ্রহণ করলেন এবং বারশত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিজন ৬টি করে রুটি এবং আধাপোয়া গুড় দিল। রুটিগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের নিজ হাতে বানানো তাদের সেভাবেই বলা হয়েছিল। স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, আমি এবং গাইডদেরসহ এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকীর সহযোগিতায় বি.এন.সি.সি ময়নামতি রেজিমেন্টের অফিসাররাসহ এই রুটি পৌঁছে দেই বন্যার্তদের মাঝে। এ রকম আরো অনেক কাজে স্কুলের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছি, “বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র” স্কুল শাখাটি আমার দ্বারা খোলা। সেখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করছে।
আমার মেয়েরা আমার কিন্তু তাদের মানুষ করার ‘কারিগর সিষ্টার ও স্যাররা’ আর স্কুল হচ্ছে কারখানা; এই কারখানায় অভিভাবক হিসেবে একটু শ্রম দেওয়া আমি আমার কর্তব্য বলে মনে করেছি। এভাবে সকল অভিভাবক যদি তাদের প্রিয় সন্তানদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটু সময় ব্যয় করেন তাহলে যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ভালো করবে।
যাক ধান ভানতে শিবের গীত। শুরু করেছিলাম স্কুলের ইতিহাস লিখতে কিন্তু লিখছি নিজের কথা।
সিষ্টার কিরন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে গত বছরই এসেছেন এ স্কুলে। তিনি অনুরোধ করলেন মিশনারী স্কুলের ৫০ বছর পূর্তিতে স্কুল নিয়ে একটা জারী লিখে দিতে; তাকে বললাম স্কুলের অতীত সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতে। তিনি কিছু তথ্য দিলেন, জারী লিখলাম, কিন্তু মনের মাঝে একটা আগ্রহ জাগলো স্কুলের অতীত ঘাটনাতে। শুরু করলাম খোঁজ। প্রাক্তন ছাত্র অভিভাবক, স্থানীয় জনগণ এদের টুকটাক স্মৃতি বিশেষ করে কুমিল্লা খদ্দেরকে আধুনিকরূপে পরিবেশনকারী স্কুলের প্রথম দিকের ছাত্র প্রদীপ কুমার রাহা, (কান্তি দা)। (তারা দু'ভাই ছিলেন) এ স্কুলের ছাত্র এবং বর্তমান বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক ‘গণশিক্ষা’ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সংগীত শিল্পী আপেল মাহমুদের সাথে কথা বললাম।
১৯৪৯ সালের ১১ নভেম্বরের শেষ দিকে তিনজন সিষ্টার এসে নামেন ছোট্ট কুমিল্লা শহরে এবং ষ্টেশন ক্লাবের পাশে আওয়ার লেডী অফ ফাতিমা চার্চ্চে ওঠেন। তখন চার্চ্চে ওঠেন। তখন চার্চের ফাদার ছিলেন ফাদার ফ্রান্সিস উইস সি এস সি। ঐ তিনজন সিষ্টারের মধ্যে একজন ছিলেন এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাত্রী সিষ্টার মেরী লিউ ক্যাভল। এখন যেমন দেয়াল দিয়ে সবাই সীমানা করে নিয়েছে তখন এমন ছিল না। উত্তরে জিলা স্কুল থেকে দক্ষিণে ফৌজদারী চৌমুহনী পর্যন্ত ছিল ধূ-ধূ মাঠ এবং ধানী জমি পূর্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্র্যান্ড ট্রাঙ্করোড, যা স্কুলের পাশ ঘেষে জেলখানা হয়ে চলে গেছে ঢাকার দিকে। পশ্চিমে পৌর পার্ক ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট অফিস। বর্তমান স্কুল বাড়িটি ছিল তৎকালীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেনাবাহিনীর ঠিকাদার রুহিনী দত্তের, তিনি তার পরিবার নিয়ে এখানে বাস করতেন। বাড়িটির নাম ছিল “দীনধাম” যা আজো আছে। পাশেই টিন শেডে ছিল রুহিনী বাবুর কনটাকটরী মালামালের একটি ‘ওয়ার্কশপ’ রুহিনী বাবুর পাশের বাড়িটি ছিল তৎকালীন কুমিল্লার একজন বিখ্যাত উকিল রেবতী দাসের। এক সময় এই রেবতী বাবুর বাড়িতে কুমিল্লার আরেক প্রথিতযশা উকিল পাকিস্তান পার্লামেন্টে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীদার’ স্বাধীনতার সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাস করতেন। এ বাড়িতেই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী মারা যান। পরে ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে নিজ বাড়ি করে চলে যান, যেখান থেকে ২৯ মার্চ ১৯৭১-এ পাক সেনারা তাকে ধরে নিয়ে যায়ক্যান্টনমেন্ট এবং সেখানেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
সিষ্টার মেরী লিউ এ অঞ্চলে ক্যামব্রিজ প্রথায় শিক্ষার জন্য একটি স্কুল করার স্বপ্ন দেখেন এবং তিনি চার্চের অনুমতি পান। তিনি চার্চের পাশে রুহিনী দত্তের বাড়িটিকে স্কুলের জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে ভাবেন। স্কুলের সবচেয়ে পুরানো শিক্ষিকা সিষ্টার জুলিয়ানা পিউরিফিকেশন বলেন সিষ্টার লিউর অনুরোধে আর্চ বিশপ গ্রেনার সি,এস,ডি, এল রুহিনী দত্তের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন। তিনিই বিদ্যালয়ের প্রথম কর্ণধার। বর্তমান কর্ণধার আর্চ বিশপ মাইকেল রোজারিও ডি, ডি। তখনকার কুমিল্লা ছিল হিন্দু প্রধান এলাকা। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এই উপমহাদেশে একটি অগ্রসর জনপদ। ১৯৫০ সালের ৮ জানুয়ারি তিনজন ছাত্র (নাম জানা যায়নি) একজন ছাত্রী লুৎফা চৌধুরী রিয়াকে নিয়ে ‘দীনধামে’র বারান্দায় ক্লাশ শুরু হয়। তখন স্কুলের নাম ছিল-‘আওয়ার লেডী অব ফাতিমা স্কুল’। ১১ বছর পর ১৯৬১ সালে স্কুল ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয় এবং স্কুলের নাম হয় 'আওয়ার লেডী অফ ফাতিমা ক্যামব্রিজ স্কুল' যা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ছিল। ১৯৬১ সালে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬০০ এবং শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন ২৫ জন। শিক্ষকদের প্রায় সবাই ছিলেন খ্রিষ্টান মিশনারী। স্কুলে ক্যামব্রিজ প্রথায় ছেলেমেয়ে একসাথে লেখাপড়া করত! দু'মাধ্যমেই ক্লাশ হতো- ইংরেজি মাধ্যমের ক্লাশ হতো 'দীনধামে' (পশ্চিম দিকে) বাংলা মাধ্যমের ক্লাশ হতো পূর্ব দিকে টিনের ঘরে।
১৯৫৫ সালে দীনধামের পাশে উত্তর দিকে আরেকটি বিল্ডিং করে স্কুল বাড়ানো হয় এবং দোতলায় মেয়েদের হোষ্টেলের ব্যবস্থা করা হয়। তৎকালীন আমলে চট্টগ্রাম সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীরা হোষ্টেলে থেকে পড়ালেখা করতো। ১৯৭৩ সাল থেকে সারাদেশে সর্বস্তরে বাংলা চালু হয় এবং কর্তৃপক্ষ স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আওয়ার লেডী অব ফাতিমা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং তখন থেকে স্কুলে পুরোপুরি বাংলা মাধ্যম চালু হয়। ১৯৫৪ সাল থেকেই সাদা ও সবুজ ছিল স্কুলের পোশাকের রঙ। ১৯৫০ সালে স্কুলে ক্লাশ ছিল এমন- কেজি-১, কেজি-২, বেবী, এরপর ওয়ান, টু, থ্রী। এ স্কুলের ছাত্র আরিফের আঁকা মনোগ্রাম স্কুলের মনোগ্রাম হিসেবে গৃহীত হয়। ৩৫ জন ছাত্রের ডিজাইন হতে আরিফের ডিজাইন শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হয় যা আজো ছাত্রছাত্রীদের স্কুল পোশাকের সাথে শোভা পাচ্ছে। মনোগ্রামের তিনটি ভাগ উপরে ক্রস চিহ্ন যা মেরিনাইট সিষ্টারদের হলিক্রস এবং ছাত্রদের মটো ঊীপবষংরড়ৎ, ডানদিকে বাংলার নৈসর্গিক দৃশ্য এবং বায়ে শিক্ষার আলোক বর্তিকা।
১৯৬১ সনে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে 'মেমোরিজ' নামে স্কুলের প্রথম ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। ম্যাগাজিনে ছাত্র-ছাত্রীদের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটে। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে স্কুলটি বেশ অগ্রসর ছিল। ১৯৫২ সালে যখন সারাদেশে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য সোচ্ছার হয় মিশনারী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা তাতে পিছিয়ে ছিল না। ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় গুলীর প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীরা কুমিল্লা শহরে একটি মিছিল বের করে। তৎকালীন ছাত্র প্রদীপ রাহা এবং আপেল মাহমুদ বলেন, একটা শ্লোগানই এখনো তাদের মনে পড়ে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”“নুরুল আমীনের কল্লা চাই।” আপেল মাহমুদ ১৯৭১ সালে একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নরসিংদী সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
৮ই জানুয়ারি ১৯৫০ স্কুল চালু হওয়ার পর স্কুলটিকে নানাবিধ প্রতিকূলতাও পোহাতে হয়। তখনকার সমাজের এক শ্রেণীর লোক প্রচার করতে থাকে যে, মিশনারীরা এ দেশের কোমল প্রাণ শিশুদের খ্রীষ্টান বানানোর কারখানা বসিয়েছে, বিশেষ করে তখনকার দু'একটি পত্রিকা এ স্কুল সম্পর্কে নানাবিধ বিরূপ সংবাদ প্রকাশ করতে লাগলো। এজন্যই বোধহয় তখনকার বা এখনকার কোন লেখাতেই স্কুলটি সম্পর্কে কোন কিছু জানা যায়নি। এমনকি জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত কুমিল্লা জেলার ইতিহাস গ্রন্থেও মিশনারী স্কুল সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু খারাপের মধ্যেও ভালোর বসবাস সব সময়ই থাকে। সমাজের শিক্ষিত ও প্রগতিশীল ব্যক্তিদের নীরব সমর্থনে স্কুলটি তৎকালীন সারা পাকিস্তানে নাম করে। স্বাধীনতার পর ১৯৯১ ও ১৯৯৮ সালে স্কুলটি দুই দুইবার রাষ্ট্রীয় পদক পায়। তৎকালীন প্রধান শিক্ষিকা সিষ্টার দীপ্তি প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পান।
১৯৬৫ সনে স্কুলের জন্য আসে ক্রান্তিকালঃ স্কুলের প্রতিষ্ঠাত্রী সিষ্টার মেরী লিউ ক্যাভেল হলিক্রসের বৃহত্তর দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক সকলকে অশ্রু সাগরে ভাসিয়ে স্বদেশে চলে যান। স্কুলে নতুন প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সিষ্টার যোয়ান অব আর্ক। একই বছর ভারত ও পাকিস্তান রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যে কারণে বিদেশীনি সিষ্টারগণ দেশে চলে যান। তখন কয়েকমাস সিষ্টার মেরী জর্জ প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর থেকে প্রিন্সিপাল হয়ে আসে একে একে বাঙ্গালি খৃষ্টানগণ। সিষ্টার মেরী গ্রেডেট, সিষ্টার মেরী সেলিন, সিষ্টার মেরী জর্জ, সিষ্টার মেরী পেট্টা, সিষ্টার মেরী রুথ, সিষ্টার মেরী তারা, সিষ্টার অনিমা, সিষ্টার মেরী দীপ্তী এবং বর্তমানে সিষ্টার মেরী শিখা। ১৯৮২ সনে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাত্রী সিষ্টার মেরী লিউ ক্যাভেল তার ধর্মীয় জীবনের সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের উদ্দেশ্যে কুমিল্লার বুকে ২য় বারের মতো পদার্পণ করেন। স্কুলের শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে স্বাদরে গ্রহণ করেন এবং তার উদ্দেশ্যে নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ১৯৯৩ সনের ৮ই এপ্রিল ৮০ বছর বয়সে এই মহিয়সী মহিলা আমেরিকাতে প্রাণ ত্যাগ করেন। ২০০৪ সাল থেকে আর কোনো ছাত্র ভর্তি করা হয় না বর্তমানে কেজি থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ১৮শ ছাত্রী রয়েছে। ২০০৪ সলে চার্চের জায়গায় (ঈদগাহের উত্তর দিকে) সেন্ট মাইকেল মাল্টিপার্পাস প্রাথমিক বালক বিদ্যালয় খোলা হয়। কুমিল্লার সুধী সমাজের দাবী স্কুলটিকে সম্প্রসারিত করা। অভিভাবকদের সহযোগীতায় স্কুলের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। স্কুলে একটি পরিচালনা পরিষদ রয়েছে। বিষপ সুব্রত গমেজ বর্তমানে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, এতে অভিভাবকদের দ্বারা নির্বাচিত দু’জন অভিভাবক প্রতিনিধি রয়েছেন।
১৯৫০ সালের ৮ জানুয়ারী বিদেশিনী প্রয়াত সিষ্টার মেরী লিউ ক্যাভেল কুমিল্লার বুকে যে আলোক বর্তিকা জ্বালিয়েছিলেন, সেই আলোয় আলোকিত হয়েছে অনেক অনেক পরিবার, দেশ পেয়েছে এক শিক্ষিত সুশৃঙ্খল মানুষ। বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী এবং অনাগতরা এ স্কুল থেকে নেবে শিক্ষা। এই জ্ঞান বৃক্ষটি যিনি রোপন করেছিলেন তার বিদেহী আত্মার প্রতি কুমিল্লাবাসী, স্কুলের অতীত বর্তমান এবং অনাগত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে জানাই উষ্ণ শ্রদ্ধাঞ্জলি।
লেখক: অভিনেতা, আলোকচিত্রি ও নাট্য সংগঠক
