সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবনদেবেন বুড়িচংয়ে ২৪ কৃষক পরিবার
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির ।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা। 
তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ করা হলে পরিবারগুলো একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে ভূমিহীন ও অসহায় হয়ে পড়বে। তাই নিজেদের ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলো।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বুড়িচং প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন হরিপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা নিজেদের জমি রক্ষা ও পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ রবিউল হাসান। এ সময় নেহারা খাতুন, আলমগীর হোসেন, ফরিদ মিয়াসহ হরিপুর গ্রামের আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে কৃষক পরিবারগুলো জানায়, বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে একটি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের লক্ষ্যে যে জমিগুলো অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ তিন ফসলি জমি। এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করে এলাকার বহু দরিদ্র ও অসহায় পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষিকাজের সঙ্গে তাঁদের সংসারের আয়-রোজগার, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত।
কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত জমিগুলো তাঁদের কাছে শুধু কৃষিজমি নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জমির মালিকদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁদের কেউ অটোচালক, কেউ রিকশাচালক কিংবা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত। সামান্য আয়ের পাশাপাশি জমিতে ফসল উৎপাদন করে তাঁরা পরিবারের ভরণপোষণ চালান। অনেকের কাছে এই জমির বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ বা বিকল্প আয়ের উৎস নেই। কারও কারও বসতভিটাও এই জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের কারণে ২৪টি পরিবার সম্পূর্ণ ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমি হারালে তাঁদের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে, কমে যাবে আয়ের সুযোগ। এতে পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর সামনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
কৃষক পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই ফসলি জমি। জমি হারালে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা কোথায় যাব, কীভাবে চলব? তাই আমাদের শেষ সম্বল রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।’ এ সময় তাঁরা জমি রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কৃষক পরিবারগুলোর দাবি, হরিপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এলাকায় থাকা পতিত ও অনাবাদি জমি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁদের ভাষ্য, এসব বিকল্প জমি ব্যবহার করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তাঁরা আরও জানান, এলাকায় সরকারি খাসজমি রয়েছে। এ ছাড়া বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য বিনা মূল্যে জমি দান করতে আগ্রহী বলে তাঁরা দাবি করেন। এসব সম্ভাবনা যাচাই না করে কেন তিন ফসলি কৃষিজমি অধিগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
তাঁদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে ভূমিহীন করার উদ্দেশ্যে এসব জমি নির্বাচন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক পরিবারগুলো বলেন, তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিরোধী নন। বরং এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন কেড়ে নেওয়া হলে তা তাঁদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হবে। তাই জমি অধিগ্রহণের আগে বিকল্প স্থান যাচাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাস্তব অবস্থা বিবেচনা এবং তাঁদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বুড়িচং প্রেসক্লাব বরাবর স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, বিকল্প জমি নির্ধারণ এবং ২৪টি কৃষক পরিবারের জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


 












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২