নিজস্ব প্রতিবেদক: পারিবারিক বন্ধন, প্রীতি ও সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সোন্দ্রম গ্রামের পারিবারিক মিলনমেলা । শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কোটবাড়ির বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) মিলনায়তনে এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিলনমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকিত সোন্দ্রম’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
কুমিল্লাস্থ সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন। প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ. টি. এম. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং মিলনমেলার সভাপতি এ কে এম লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পারিবারিক বন্ধন, প্রীতি ও সৌহার্দ্যকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মিক বন্ধন দৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় মিলনমেলাটি প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় হয়ে উঠবে। পারিবারিক ঐক্য ও সম্প্রীতি অটুট রাখার পাশাপাশি সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
মিলনমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ সম্পর্কে এ. টি. এম. মিজানুর রহমান বলেন, পারিবারিক বন্ধন মানুষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল। পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জীবনের মূল্যবান সম্পদ। ব্যস্ততা ও দূরত্বের কারণে অনেক সময় আপনজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না। এ ধরনের মিলনমেলা সবাইকে একত্রিত করার পাশাপাশি পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্মরণিকাটি মিলনমেলার আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পারিবারিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি হাজী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার গুরুত্ব রয়েছে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মিলনমেলা সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকেরা জানান, গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ মিলনমেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে ওই গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রয়াত কফিল উদ্দিনের পরিবার-সহ বিভিন্ন জনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়
কুসিকের মশক নিধন অভিযান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নগরীর ৩, ৫, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করা হয়।
অভিযানের আওতায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াজুরী শীলবাড়ী রোড, শীলবাড়ী, এনআরএস রোডের ১ থেকে ৪ নম্বর সড়ক, এনআরএস মাঠ, ইউনুস মিস্ত্রির বাড়ি, হেলেনা আপার গলি, হক সাহেবের বাড়ি ও বড়বাড়ি এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোগলটুলি মোড় থেকে কুমিল্লা হাইস্কুল হয়ে পুরাতন চৌধুরীপাড়া সড়কের উভয় পাশ, তারা জামে মসজিদ রোড, টিঅ্যান্ডটি অফিস, কালীবাড়ী, ফৌজদারি মোড়, এবি ব্যাংক গলি, কালেক্টরেট স্কুল রোড, রাজবাড়ী কম্পাউন্ড, উজির দিঘীর পাড়, স্টেডিয়াম রোড ও সার্কিট হাউস পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।
১০ নম্বর ওয়ার্ডে ফয়জুন্নেছা স্কুলের সামনে থেকে ডাক্তারপাড়া রোড, ফরিদা বিদ্যায়তন রোড, ট্রমা সেন্টার, নজরুল অ্যাভিনিউ, কান্দিরপাড়, ঢাকা ব্যাংক গলি, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের গলি, মেডি কমপ্লেক্স হাসপাতালের সামনের এলাকা, বাদুরতলা, টাইপ স্কুলের গলি, ইব্রাহিম হুজুরের গলি ও শিশু মঙ্গল সড়কের উভয় পাশে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
১১ নম্বর ওয়ার্ডে মনোহরপুর সোনালী আবাসিক এলাকা, মাতৃভান্ডার, গনি ভূঁইয়া ম্যানশন, উষা মার্কেট গলি, খন্দকার মার্কেট, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, লিবার্টি মোড়, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, রানীর দিঘির পাড়, মুন্সেফবাড়ী রোডের উভয় পাশ ও দেশওয়ালীপট্টি রোডে মশক নিধন করা হয়।
১২ নম্বর ওয়ার্ডে ডিগাম্বরীতলা অফিসের সামনে থেকে সড়কের উভয় পাশ, রোকেয়া ক্লিনিক গলি ও বাইতুল আনোয়ার জামে মসজিদ রোডে অভিযান চালানো হয়।
এ ছাড়া হালুয়াপাড়া আরকে সড়ক, শুভপুর, প্রশাসকের বাসভবন, চেয়ারম্যান গলি, বজ্রপুর, নগর শিশু উদ্যান, তোয়া হাউজিং, নিউমার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড ও চান্দিনা প্লাজা এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নগরবাসীকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
